Total Pageviews

Showing posts with label সাধারন স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label সাধারন স্বাস্থ্য. Show all posts

Friday, October 14, 2011

যত বেশি ঘাম, তত বেশি সুস্থতা

ঘাম সবার জন্যই একটি বিরক্তিকর বিষয়। আবার অনেক সময় ঘামের মাধ্যমে কোঝা যায় আপনি কতটা পরিশ্রম করেছেন, কতটা ক্লান্ত। এর বেশি কখনোই হয়ত ঘাম নিয়ে এতটা ভাবা হয়নি। কিন্তু ঘাম নিয়েও আছে নানান অবাক করার তথ্য। ঘামের ধরন, উপকারিতা, উৎস সহ আরো অনেক মজার তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এক দল গবেষক।
ভিন্নতা আছে নারী-পুরুষের ঘামানোর মধ্যে
নারী-পুরুষ পুরোপুরি ভিন্ন। তাদের দেহ গড়ন ভিন্ন, তাদের মানসিকতা ভিন্ন, তাদের খাদ্যাভাস থেকে শুরু করে ঘামানোর মাত্রাটা পর্যন্ত ভিন্ন।
গবেষকরা দেখেছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং সমবয়সী একজন নারী একই পরিমাণ কাজ, একই সময় ধরে করছে এবং পরিশ্রম একই পরিমাণ করেছে। কিন্তু তাদের তাদের ঘামানোর মাত্র ছিল ভিন্ন। সেই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ তার সমবয়সী নারীর তুলনায় চারগুণ বেশি ঘাম ঝড়িয়েছে। এই ভিন্নতার পেছনে হরমোন দায়ী বলে মনে করছেন গবেষকরা। তবে তারা এখনো এর নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাদের এই গবেষণার প্রতিবেদনটি কিছুদিন আগে ‘এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিওলজি’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়।
বেশি ঘাম, মানে সুস্থতা
অনেকেরই ধারণা, বেশি ঘামানো মানে অসুস্থতার লক্ষণ লক্ষণ। কিন্তু এই ধারণাটিকে ভুল বলে উড়িয়ে দিলেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, ঘাম বেশি হওয়া মানে হলো আপনি পুরোপুরি ফিট আছেন। যত বেশি ঘাম, তত বেশি সুস্থতা।
এর কারণ হিসেবে গবেষকার বলেছেন, বেশি ঘামানোর মানে হলো আপনি বেশি কাজ করছেন। এর মানে হলো আপনার দেহ যারা কম ঘামায় তাদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়। আর তাই দেহের ভেতরে জমে থাকা পানি ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে শরীরকে ঠাণ্ডা করে। এর মাধ্যমে পরিশ্রমের ফলে শরীরের তাপমাত্র বেরে গেলে, ঘাম তা নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের ফিট রাখে।
পূর্বসূরিদের প্রভাবও আছে ঘামে
আপনি যদি স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি ঘামান, তাহলে এতে আপনার কোনো হাত নেই। এর জন্য দায়ী আপনার বংশ।
কারণ, গবেষকদের মতে জন্মগতভাবেই মেজর হিস্টোকম্পাটিবেলিটি নামের একটি অনু ঘামানোর মাত্রা এবং ঘাম সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই অনুটি আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাই আমাদের মা-বাবার কাছ থেকে।
অতিরিক্ত ঘাম
আমরা সাধারণত ঘামাই যখন আবহাওয়া অনেক উত্তপ্ত থাকে, অনেক পরিশ্রমের পর, ভয় পেলে অথবা ভারি কোনো কাপড় পরলে। কিন্তু অনেকেই আছে ওপরের কারণগুলো ছাড়াও অহেতুকই ঘামায়। দেখা যায় ঠাণ্ডা কোনো কক্ষে বসে থাকার পর ঘামছে কারো হাত, পা, মুখ বা বগল।
যদি এমনটা আপনার সঙ্গেও হয়, তাহলে বুঝতে হবে এটা একটা রোগ। চিকিৎসকদের ভাষায় একে বলে হাইপারহাইড্রোসিস। এই রোগে অধিকাংশ সময়েই মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই ঘামায়। বিশেষ করে হাতের তালু, পায়ের তলা, বগেএবং মুখমন্ডলে অতিরিক্ত এই ঘামের উৎপত্তি হয়। যা অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং ভবিষ্যতে বড় কোনো রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। কারণ সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করা না হলে এক সময় এই ঘামানোর রোগ পারকিনসনস এবং ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রূপও ধারণ করতে পারে।
ঘাম দুই ধরনের
ঘামেরও আছে ধরন। আমাদের দেহে দুই ধরনের ঘামের উৎপত্তি হয়ে থাকে। একটি হলো একরিন সোয়েট গ্ল্যান্ড, অপরটি অ্যাপোক্রিন সোয়েট গ্ল্যান্ড।
একদিন সোয়েট সোয়েট গ্ল্যান্ড হলো সাধারণ ঘাম, যা শরীর থেকে জমে থাকা পানি গুলো বের করে দেয়। একটানা কাজ বা ব্যায়াম করলে এই ঘাম শরীর থেকে নিঃসরিত হয়।
অন্যদিকে অ্যাপোক্রিন সোয়েট গ্ল্যান্ড হলো, লোমকুপ থেকে যে ঘম নিঃসরিত হয় তা। অর্থাৎ অতিরিক্ত গরমে অথবা দুশ্চিন্তা আমাদের মাথার ত্বক বা বগল ঘামলে যে ঘাম বের হয় তা হলো অ্যাপোক্রিন সোয়াট গ্ল্যান্ড।
বার্তা২৪ ডটনেট

বয়স্ক নারীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায় ভিটামিন

ভিটামিনের কথা উঠলে মনে হতে পারে বেশি বেশি ভিটামিন খাওয়া হয়তো ভালো। কিন্তু গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন অন্য ব্যাপার। বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে ভিটমিনের ব্যবহার মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায় বলে দাবি করছেন তারা।

যারা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে ভিটামিন শুধু তাদের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা এবং অতিরিক্তি ভিটামিন খাওয়া ক্ষতির কারণও হতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

সাধারণত পুষ্টিমান ঠিক থাকা সত্ত্বেও পঞ্চাশ ও ষাটের কোঠার অনেক নারীই ভিটামিন খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষত মাল্টিভিটামিন, ফলিক এসিড, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, কপার ও আয়রন মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষকদের বিশ্বাস, ভিটামিন খেলে উপকার হবে এমন কোন প্রমাণ ছাড়াই ভোক্তারা ভিটামিন কিনে থাকে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ডের গবেষক ড. জাকো মুরসু ও তার সহকর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮ হাজার নারীর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে যারা গত দু'দশকে ভিটামিন এবং মিনারেল গ্রহণ করেছেন।

এতে দেখা গেছে, অন্যান্য ভিটামিনের তুলনায় আয়রন ট্যাবলেট খেলে মৃত্যুঝুঁকি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ে। তবে এটি নির্ভর করে ট্যাবলেটের ডোজের ওপর। বেশি ডোজের আয়রন ট্যাবলেটের ঝুঁকিও বেশি।

অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট মৃত্যুঝুঁকি কমায়। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অযথা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়া উচিত না বলে পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Tuesday, October 11, 2011

 চনমনে হোক মন

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে

মানসিক চাপ কমাতে চাই ভালো বন্ধু, স্বজন ও পরিবার মানসিক চাপ কমাতে চাই ভালো বন্ধু, স্বজন ও পরিবার
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস
বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

মন যদি হয় মেঘলা আকাশ। শ্রাবণের মেঘ। হতাশ মন। বিষণ্ন। তখন হয়তো প্রয়োজন হতে পারে পেশাদারি পরামর্শ। কিন্তু তবু এসব উপসর্গ একটু হালকা করতে সামান্য কিছু যদি করা যায়, মন্দ কী? ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, এমনকি পোষা বিড়ালের সঙ্গে খুনসুটি মনমেজাজ হতে পারে চনমনে।
 তুলতুলে মিনিটা বড় বন্ধু। ওকে জড়িয়ে ধরে খেলু খেলু করে মেজাজকে হালকা করেন অনেকে। শুধু তা কেন, অপরের জন্য কাজ করা, একটু খেয়াল করা অন্যদের, মনকে করে হালকা।
 স্মার্ট খাওয়া। তুলে ধরে শরীর মন। মনের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক বড়ই নিবিড়। স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার মেজাজ ভালো রাখতে বেশ কাজ দেয়। প্রচুর ফল, সবজি, মোটা শস্য উজ্জীবিত করে মনকে, শরীরকেও।
দেখা গেছে বিষণ্ন মনকে হালকা করতে ওমেগা ৩ মেদ-অম্ল ও বি১২ ভিটামিন কাজ দেয়। তৈলাক্ত মাছ যেমন স্যামন, ম্যাকরিল, টুনাতে আছে সেই মেদ-অম্ল। আমাদের দেশের সামুদ্রিক মাছে। তৈলযুক্ত মাছেও। ফ্ল্যাক্সসিড, বাদাম, সয়াবিন ও গাঢ় সবুজ শাকসবজিতেও।
সিফুড ও চর্বি কম দুধজাত দ্রব্যে আছে বেশ ভিটামিন বি১২। কট্টর নিরামিষভোজী যাঁরা মাছ মাংস একেবারে খান না এঁরা ফর্টিফাইড শস্য, দুধজাত দ্রব্য ও সাপ্লিমেন্ট থেকে পান বি১২।
 মন তোলার জন্য লো-ফ্যাট শর্করা
‘সেরোটনিন’ নামে যে মগজের রাসায়নিক, মন ভালো করার জন্য এর অবদান অস্বীকার করার নয়। শর্করা খেলে মগজে সেরোটনিনের মান বাড়ে। লো-ফ্যাট শর্করা যেমন পপকর্ন, সেঁকা আলু, ক্রাকারস, প্যাস্টা। সবজি, ফল, গোটা শস্য থেকে আসে আঁশ।
 ক্যাফেইন গ্রহণ করতে হবে কম,
দুই কাপ তো হয়েছে। তৃতীয় কাপ কেন? বেশি কফি খেলে মেজাজ যায় বিগড়ে, নার্ভাসও লাগে। উদ্বিগ্ন মনে হয়। তাই সোডা, কফি, কোলা কম গ্রহণ করলে মন ভালো হয়। রাতে ঘুমও হয় ভালো।
 ব্যথা-বেদনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বিষণ্নতা, মন খারাপ। তাই ব্যথার চিকিৎসা করলে মনও ভালো হয়।
 চাই ব্যায়াম। ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে ব্যায়াম। সে জন্য ম্যারাথন দৌড় দিতে হবে কেন? রমনার উদ্যানে জীবনসঙ্গী বা বন্ধুর সঙ্গে হাঁটুন ৪০ মিনিট। শরীর মন ভালো হবে। রাতে হবে ভালো ঘুম।
কেবল হাঁটা কেন? দৌড়াতে পারেন। সাইকেল চালানো। গলফ স্কিপিং ব্যাডমিন্টন। টেনিস। সাঁতার। বাগানে কাজ করা। যাই ভালো লাগে উপভোগ করা যায় এমন ব্যায়াম। একসঙ্গে অন্যদের সঙ্গেও ব্যায়াম করতে পারেন। রোদের আলো যেন বেশি পান। জানেন তো গাঢ় অন্ধকার দিনে মন খারাপ লাগে বেশি। রোদ উঠলে স্ফূর্তি। রোদেলা দিনে বের হবেন অবশ্য।
 নিজের সৃজনশীল শক্তি আরও আবিষ্কার করুন। ছবি আঁকা, ছবি তোলা, গান করা, সেলাই ফোঁড়াই, লেখালেখি। মনের অনুভূতিকে নাড়া দেওয়া, অনুভূতিকে প্রকাশ করা। সৃজনশীল কর্ম করলে মন ভালো হয়। নিজের স্বপ্ন, এতে কি যে আনন্দ!
 চাপ ও দুশ্চিন্তা বিষণ্নতাকে আরও গাঢ় করে তোলে। সেরে উঠতে সময় নেয়। মনকে শিথিল করলে রিলাক্স করতে পারলে শান্তি আসে মনে। তাই ধ্যানচর্চা ও যোগ ব্যায়াম। গান শোনা একান্তে। দীর্ঘক্ষণ স্নান।
 সক্রিয়কর্মে ব্রতী হন।
কাজে জড়িয়ে পড়ার মধ্যে মনের আনন্দ। কোনো ভালো কাজে। একত্রে কয়েকজন মিলে, মন ভালো হবে।
 জীবনে থাকুক বন্ধু, স্বজন
যারা অবলম্বন দেবে দুঃসময়ে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, স্ফূর্তি করুন। বন্ধের দিন কাটান পরিবারের অন্যদের সঙ্গে। মন ভালো হবে।
 চাই স্বাস্থ্যকর ঘুম।
সুনিদ্রা। নিটোল ঘুমে কাটে মনের মেঘ। রোদ ওঠে ঝিকমিক।
 মদ্যপান ও ধূমপান বর্জন।
দেখবেন মন ভালো হবে।
 বিষণ্নতার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন হলে তাও চালিয়ে যেতে হবে।
ডাক্তারের পরামর্শ তো আছেই।

Wednesday, October 5, 2011

উজ্জীবিত দিনের জন্য

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস
বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

দিনে মন-মেজাজ চনমনে রাখতে খাদ্যের ভূমিকা আছে, তা জানেন কজন? অনেকে জানেন। এনার্জিও উজ্জীবিত হয়। কথায় আছে, ‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থাকে দূরে’। আমরা যা খাই, এর সঙ্গে আমাদের মেজাজ, অনুভূতি—এসবের সম্পর্ক নিয়ে ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। প্রমাণ আছে, খাবারে পরিবর্তন আনলে বিপাককর্ম যায় বদলে, বদলে যায় মগজের রসায়ন; শরীরের এনার্জি মান ও মেজাজ—দুটোই হয় প্রভাবিত।
শুরু হোক: খাদ্য এনার্জির উজ্জীবন ঘটায় তিনভাবে। পর্যাপ্ত ক্যালরি জুগিয়ে, ক্যাফিনের মতো উদ্দীপক সরবরাহ করে, বিপাককর্মকে আরও বেশি জ্বালানি কার্যকরভাবে পোড়াতে সহায়তা করে। মেজাজ প্রসঙ্গে: শ্রেষ্ঠ খাবার হলো সেগুলো, যেগুলো রক্তের সুগারে সুস্থিতি আনে, নিঃসৃত করে সুখানুভূতি উদ্দীপক বস্তুর, যেমন—সেরোটনিন।
স্মার্ট শ্বেতসার: শ্বেতসার-শর্করা নিয়ে ভাবনা, তবে এনার্জি ও মেজাজ উজ্জীবনে এর ভূমিকা বড়। শরীর শ্বেতসারকে দহন করে জ্বালানি পেতে চায়। এ ছাড়া খেলে সেরোটনিন মানও বাড়ে। তাই মিষ্টিমণ্ডা না খেলে হলো, রক্তের সুগার উথাল-পাতাল হবে, তাই মেজাজেরও হবে চড়াই-উতরাই। ক্লান্তি ও বদমেজাজ; বরং গোটা শস্য, তুষ, ছাতু, আটার রুটি, লাল চাল, শস্য হলে হলো। ভালো। শরীর গোটা শস্যকে শোষণ করে ধীরে, তাই রক্তসুগার ও এনার্জি মান থাকে সুস্থিত।
কাজুবাদাম, বাদাম হেজেলনাট: এই বাদামগুলো কেবল যে প্রোটিনসমৃদ্ধ তা-ই নয়, এগুলোতে আছে ম্যাগনেশিয়াম। সুগারকে এনার্জিতে রূপান্তরে এর রয়েছে বড় ভূমিকা। দেখা গেছে, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে শক্তি নিঃশেষিত হয়। ম্যাগনেশিয়াম আরও আছে গোটা শস্য, তুষ, হ্যালিবাট মাছেও।
ব্রোজিল নাটস: ব্রোজিল নাটস খেলে পাওয়া যাবে খনিজ সেলেনিয়াম। মেজাজ করে চনমনে। সেলেনিয়াম ঘাটতি হলে মেজাজ বিগড়ে যায়। মাংসে, সমুদ্রের খাদ্যে, বিনস ও গোটা শস্যেও আছে সেলেনিয়াম।
কচি মাংস: কচি মোরগ ও অন্যান্য মাংসে আছে, যেমন—কৃষ আমিষ, তেমনি অ্যামিনো এসিড টাইরোসিন। টাইরোসিন ডোপামিন ও নবইপিনেফ্রিন মান উজ্জীবিত করে মগজের এই রাসায়নিক মনকে করে সজাগ ও তীক্ষ। মাংসে আছে ভিটামিন বি১২, অনিদ্রা ও বিষণ্নতায় উপকারী।
সামুদ্রিক মাছ: তৈলাক্ত মাছ, যেমন—স্যামন মাছে আছে ওমেগা৩ মেদ-অম্ল, বিষণ্নতায় উপযোগী। হূৎ স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। বাদাম ও পত্রবহুল সবজিতেও আছে এই মেদ-অম্ল।
পত্রবহুল সবজি
বিষণ্নতা দূর করতে আরেকটি উপকরণ হলো ভিটামিন ‘ফলেট’; আছে পত্রবহুল সবজি, যেমন—পালংশাক, লেটুস-জাতীয় শাকে। ডাল, বাদাম ও কমলাতেও আছে বেশ।
আঁশ: আঁশ এনার্জিতে আনে সুস্থিতি। ধীর করে পরিপাক ক্রিয়া, এনার্জির ধীরস্থির জোগান সহায়তা করে, সারা দিন। বিনস, বাদাম, সবজি, আটার রুটি, ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত খান, আঁশ পাবেন।
পানি: নিরুদন ও ক্লান্তি চলে সঙ্গে সঙ্গে। হাত ধরে। এমনকি মৃদু নিরুদনও ধীর করে বিপাক; শুষে নেয় এনার্জি। সমাধান সহজ—প্রচুর পানি পান করুন।
তাজা ফল-সবজি: তরল ভরপুর সবজি খাবেন, খাবেন রসাল ফল। তাহলে সজল থাকা যাবে। প্যাকেট স্ন্যাকস নয়, তাজা ফল। ওটমিল। পায়েস, ফলের রস। শরবত, চিনি ছাড়া।
কফি: বেশ উদ্দীপক। ক্ষণকালের জন্য বেশ কাজের। তবে বেশি পান ঠিক নয়। সন্ধ্যা ও রাতে তো নয়, তাহলে ঘুমে বিঘ্ন হবে।
চা: ক্যাফিনের বিকল্প উৎ স হলো চা। গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের মধ্যে ক্যাফিনও অ্যামিনো এসিড এল থিয়ানিন মনকে সজাগ করে; স্মৃতি উন্নত করে। ব্ল্যাকটি ভালো।
গাঢ় চকলেট: খেলে মগজ হয় চনমনে। ক্যাফিন ও থিওব্রোমিন।
প্রাতরাশ: এনার্জি ও মেজাজ উজ্জীবন করতে হলে প্রাতরাশ বাদ দিলে চলবে না। দেখা গেছে, যাঁরা প্রতিদিন নিয়মিত প্রাতরাশ খান, তাঁদের সারা দিন থাকে দেহমন শক্তিতে ভরপুর ও চাঙা। গোটাশস্য, আঁশ, ভালো চর্বি, কচি আমিষ—ভালো প্রাতরাশ।
বারবার খাওয়া, কম কম করে: রক্তের সুগার সুস্থিতির জন্য, এনার্জির সুস্থিতির জন্য, মেজাজ চাঙা রাখার জন্য এটি হলো কৌশল।
তিন থেকে চার ঘণ্টা পর ছোট ছোট খাবার বা নাশতা খাবেন, দিনে তিনবেলা বড় খাবার না খেয়ে, ভূরিভোজন না করে। স্ন্যাকস হতে পারে পিনাট বাটার, গোটা শস্য ক্যাকারস, কচি গোশত ও সালাদ। গোটা শস্য দুধ।
এনার্জি ড্রিংক ও জেল তেমন ভালো নয়।
ব্যায়াম করুন এনার্জির জন্য: জোরে হাঁটা আধাঘণ্টা, সাইকেল চালানো—কত ব্যায়াম, যা সয়ে যায়।

Sunday, September 18, 2011

ঘাড় ব্যথার অন্যতম প্রধান কারন

সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস – ঘাড় ব্যাথার অন্যতম প্রধান কারন
বাতের ব্যাথা বলতে আমার বুঝি হাত পা বা মেরুদন্ডের দীর্ঘকালীন ব্যাথাকে।“বাত” শব্দ টা নির্দিষ্ট কোন একটা রোগ নয় বরং এক প্রকার রোগ বলা যায় যার সংখ্যা শতাধিক। বাত সম্পর্কে প্রচলিত ধারনা নেতি বাচক। রোগিরা অনেকে প্রশ্ন করেন “ডাক্তার সাহেব রোগ টা কি বাত?” উত্তর যদি হ্যাঁ বলি তবে রোগীরা ধরে নেন বয়েস হয়েছে বাতের ব্যথা ত ধরবেই আর এটা সারবেও না।কথাটা নিতান্ত অমুলক ও নয়।অধিকাংশ বাত ই বয়স্কদের রোগ আর নিরাময়যোগ্য ও নয়।এটা সত্যি যে বয়স বাড়া এবং এর পরিবর্তন গুলো আমরা রোধ করতে পারি না তবে চিকিৎসা করে রোগীর উপসর্গ কমিয়ে কষ্টের লাঘব করা সম্ভব।
সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস কিঃ-
ঘাড় ব্যাথার অন্যতম প্রধান কারন হল সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস।ব্যাপার টা একটু খুলে বলি। মেরুদন্ডের ক্ষয়(degenerative condition) রোগ হল স্পন্ডাইলোসিস আর মেরুদন্ডের ঘাড়ের অংশের ক্ষয়ে যাওয়া হল সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস।আমাদের মেরুদন্ড হল হাড়, মাংশপেশী, গিঠ ইত্যাদি নিয়ে। কশেরুকা বা ভারটিব্রা গূলো একটার উপর আরেকটা ইন্টারভারটিব্রাল ডিস্ক এবং অনান্য গিঠ দিয়ে জুড়ে তৈরি হল মেরুদন্ড। দুটো হাড়ের মাঝখানের ডিস্ক, অনান্য গিঠ, লিগামেন্ট সব কিছুই বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্ষয় হতে থাকে।মেরুদন্ডের হাড় ঘিরে রাখে একটা নালি বা ক্যানাল ,( ভারটিব্রাল ক্যানাল) যার ভিতর দিয়ে মস্তিস্ক থেকে নেমে আসে স্পাইনাল কর্ড এবং তা থেকে গাছের শিকড়ের মত নার্ভ গূলো বেরিয়ে এসে ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেরুদন্ডের হাড়ে পরিবর্তন হতে থাকে। ভারটিব্রা বা কশেরুকার মধ্যকার ডিস্কে পানি কমে গিয়ে ভঙ্গুর হয়,উচ্চতা কমে চিপ্টে যায় এবং তা অনেক সময় পিছনে সরে গিয়ে নার্ভের উপর চাপ দিয়ে ব্যাথার সৃষ্টি করে যাকে বলে ডিস্ক প্রোলাপ্স।এই ডিস্ক এর উচ্চতা কমার সাথে সাথে তৈরী হয় ছোটো ছোটো হাড়ের টুকরো বা অস্টিওফাইট যা।এই টুকরো গুলোও নার্ভের উপর চাপ দিয়ে ব্যাথার সৃস্টি করতে পারে।
সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের কারনঃ-
বয়সঃ বৃদ্ধ বয়সের রোগ এটি।স্পন্ডাইলোসিসের পরিবর্তন শুরু হয় ৪০ বৎসর বয়সের পর থেকে কোনো কোণো ক্ষেত্রে আগে থেকেও।
আনুপাতিক হার পুরুষ বা মহিলা রোগীদের মধ্যে প্রায় সমান সমান।
পেশাঃ- ঘাড় সামনে ঝুকিয়ে কাজ করতে হয় এমন সব পেশাতে রোগটি বেশী দেখা যায়।যেমন চেয়ার টেবিলে বসে কাজ, কমপিউটারে কাজ, টাইপ রাইটার ইত্যাদি।ঘাড়ের ঝাকুনি হয় এমন পেশা যেমন নর্তকী, সাইকেলে চলাচল করতে হয় এমন পেশা ইত্যাদি।।
ঘাড়ে আঘাত এর ইতিহাস থাকে অনেক ক্ষেত্রে।
উপসর্গঃ=
প্রধান উপসর্গ হল ঘাড়ে ব্যাথা আর চল্লিশোর্ধ বয়সে ঘাড়ে ব্যাথার প্রধান কারন ও এটি।
ঘাড়ের ব্যাথা অনেক সময় কাঁধ থেকে উপরের পিঠে,বুকে , মাথার পিছনে বা বাহু হয়ে হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।ঘাড়ের থেকে হাতে নেমে আসা নার্ভের উপর চাপ পড়লে সমস্ত পুরো হাতেই ব্যাথা হতে পারে।
সার্ভিক্যাল স্পন্ডোলাইসিসের সবচে মারাত্মক দিক হল যখন স্পাইনাল কর্ডের উপর চাপ পড়ে।এটা থেকে চার হাত পায়ে দুর্বলতা, হাটতে অসুবিধা,পায়খানা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া,ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে ।এটি হল সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোটিক মাইলোপ্যাথি(Crevical spondylotic myelopathy)।
ঘাড় নাড়াতে গেলে ব্যাথা লাগে।একিউট ক্ষেত্রে ডাইনে, বায়ে ঘাড় ঘোরান মুস্কিল হয়।ঘাড়ে জ্যাম মেরে ধরে থাকে।
ব্যাথার সাথে হতে পারে হাতে, বাহুতে ঝিন ঝি্ন, সির সির্, অবশ ভাব, সূচ ফোটানোর অনুভুতি সাথে হাত দিয়ে কাজ করতে অসুবিধা।
লক্ষনঃ-
ঘাড় উপরের পিঠ এবং বাহুতে চাপ দিলে ব্যাথা অনূভুত হয়। ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হয়।
ঘাড় ব্যাথা কখন দুঃশ্চিন্তার কারনঃ-
ঘাড়ে ব্যথার সাথে নীচের লক্ষন থাকলে-
• বিনা কারনে হঠাৎ পায়খানা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে বা নিয়ন্ত্রন করতে অসুবিধা হলে।
• হাত বা পায়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতা
• জ্বর থাকলে
• ওজন কমতে থাকলে
• ৬ সপ্তাহের বেশী ব্যাথা থাকলে
• অনান্য নার্ভের সমস্যা যেমন, কথা বলতে অসুবিধা, মাথা ঘোরা, চোখে দেখতে অসুবিধা।
• রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হলে,
• যে সমস্ত প্রশ্ন রোগীর মনে স্বাভাবিকভাবেই জাগেঃ-
• কি কারনে ব্যাথা হচ্ছে?
• সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলসিস ছাড়া অন্য কোন কারনে উপসর্গ গুলো হতে পারে কিনা
• কি কি পরীক্ষা করান উচিত।
• চিকিৎসা কি?
• অপারেশানের দরকার আছে কিনা?থাকলে কি কেন বা কখন।
• কিভাবে ঘাড়ের যত্ন নেওয়া যেতে পারে।
• ঘাড়ের বিশ্রাম বা কাজ করা বন্ধ রাখার দরকার আছে কিনা?
• চিকিতসা করলে ভাল হবে তো ? হলে পুরোপুরি কিনা?
• সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস থেকে কি কি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
• বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর দরকার আছে কিনা?
পরীক্ষাঃ-
সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস ডায়াগনোসিসের জন্য ঘাড়ের এক্স-রে প্রধান পরীক্ষা।৩০ উর্ধ বয়সে শতকরা ৫ থেকে ১৫ ভাগ এবং ৭০ উর্ধ বয়সের ৭০ থেকে ১০০% ভাগ লোকের এক্স-রে তে স্পন্ডোলাইসিসের লক্ষন ধরা পড়ে । এক্স রে’র সাথে রোগীর লক্ষনের মিল কম।এক্স রে তে স্পন্ডাইলোসিসের পরিবর্তন ধরা পড়লেও মাত্র ৫% লোক ঘাড় ব্যাথা তে ভোগেন অর্থাৎ অধিকাংশ লোকেরই ব্যাথা হয় না।অনেকের দেখা যায় এক্সরে তে ক্ষয় অনেক কিন্তু সেই তুলনায় ব্যথা কম আবার সামান্য ক্ষয়ে প্রচুর ব্যাথা হয়ে থাকে অনেকের।
অনান্য পরীক্ষাঃ- রক্তের গ্লুকোজ, প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা।
বিশেষ পরীক্ষাঃ-ঘাড়ের এম আর আই(MRI), ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি( Electromyography nerve conduction study)।
চিকিৎসাঃ-
১) ঔষধঃ- ব্যাথার ঔষধ(Analgesics), মাংশপেশী শিথিল করার ঔষধ(Muscle relaxants), দুশ্চিন্তা কমানোর ঔষধ(Anxiolytics)।
২)ফিজিওথেরাপীঃ- ঘাড়ে টানা বা সার্ভিক্যাল ট্রাকশান(Cervical Traction), শর্ট ওয়েভ ডায়াথার্মি(Short Wave Diathermy), ম্যাসাজ(Massage), ট্রান্সকিঊটেনিয়াস ইলেক্ট্রিক নার্ভ স্টিমুলেশান(Transcutaneous electric nerve stimulation, TENS)।
সার্ভিক্যাল কলার(Cervical Collar)।
৩)ঘাড়ের ব্যায়ামঃ
৪) উপদেশঃ-
 শক্ত সমান বিছানায় এক বালিশে চিত হয়ে ঘুমাবেন।ঘাড় যাতে বালিশ দিয়ে সাপোর্ট দেয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। প্রয়োজন মনে করলে বালিশ নিচে টেনে নামিয়ে নেবেন বা কম উচ্চতার বালিশ ব্যাবহার করবেন।
 ঘাড় সামনে ঝুকিয়ে বেশিক্ষন কাজ করবেন না
 কাজের জায়গায় চেয়ার টেবিল এমন ভাবে রাখবেন যাতে ঘাড় সামনে না ঝুকিয়ে কাজ করতে পারেন।
 ঘাড়ে গরম সেক দিতে পারেন,
 মাঝে মাঝে ঘাড়ের ব্যায়াম করে নেবেন।
অপারেশানঃ- শতকরা প্রায় একশতভাগ রোগী অপারেশান ছাড়া ভাল থাকেন। অপারেশানের দরকার পড়ে কচিৎ কদাচিত।

Saturday, September 17, 2011

এটি একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখা

প্রিয় পাঠক, আপনারা নিশ্চয়ই শিরোনামটি দেখে ভাববেন, প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ পাতা থাকা সত্ত্বেও এই পাতায় কেন স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখা? যে বিষয়টি আলোকপাত করছি তা হলো, ‘হূদেরাগ, এর ঝুঁকি এবং প্রতিকার’। অনেকেই হয়তো এই কথাগুলো জানেন, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে হূদেরাগের অনেক বড় বড় উদ্ভাবনী তথ্য, চিকি ৎ সা ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান অর্জন করাটা আজ হাতের মুঠোয়; কিন্তু বেসিক যে কথাগুলো জানা দরকার, সে জন্যই চিকি ৎ সক হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা থেকে এই লেখাটির ভাবনা।
আমরা জানি হূদ্যন্ত্র সম্পর্কে—‘হার্ট’ বা হূ ৎ পিণ্ড দেহের সবচেয়ে শক্তিশালী একটি মাংসপিণ্ড, যা প্রতি মিনিটে চার থেকে পাঁচ লিটার রক্ত পাম্প করে সারা শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রয়োজনীয় রক্তের চাহিদা মিটিয়ে চলছে আমৃত্যু। বলা যেতে পারে, হার্ট হচ্ছে আমাদের দেহের জন্য ‘মহান পুষ্টিদাতা’। তাই এর যত্ন নেওয়া অতীব জরুরি। বিশ্বব্যাপী এক নম্বর ঝুঁকিপূর্ণ এই হূদেরাগে বছরে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। উদ্বেগজনক হলো, তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই রোগ দ্রুত বাড়ছে এবং বাংলাদেশের জনগণ এই ঝুঁকির শীর্ষে, যা চীনের জনগণের ছয় গুণ এবং জাপানিদের প্রায় ২০ গুণ। সুতরাং এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতার বিষয়টি সহজেই অনুমেয়; ‘সাডেন ডেথ’-এর অন্যতম প্রধান কারণ হূদেরাগ, বিশেষ করে ‘হার্ট অ্যাটাক’। কারা এই রোগের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন? যাঁদের বয়স চল্লিশোর্ধ্ব, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে। অতিরিক্ত স্থূলতা, ওই রোগগুলোর পারিবারিক ইতিহাস এবং যাঁদের ধূমপানসহ অন্যান্য বদ-অভ্যাস রয়েছে, তবে কিছু ঝুঁকি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, যেমন—পুরুষের বয়স ৪৫ বছর কিংবা বেশি এবং নারীদের বয়স ৫৫ বছর কিংবা বেশি। এ ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়ে সৌভাগ্যবতী। পুরুষের হূদেরাগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আবার কিছু ঝুঁকি আছে, যা আমরা চাইলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি; যেমন—হাই কোলেস্টেরল! তার আগে একটু বলে নেওয়া প্রয়োজন এই যে কোলেস্টেরল নিয়ে এত হইচই! কোলেস্টেরলকে এত অপবাদ দিচ্ছি আমরা, এটা কি বিজ্ঞানসম্মত? উত্তর, না। কারণ, আমাদের শরীরের জন্য কোলেস্টেরল অত্যাবশ্যকীয়, যা রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে প্রবাহিত হয়। তবে এর মাত্রা যদি বেশি হয়, তা অবশ্যই ক্ষতিকর কারণ; তা রক্তনালির ভেতরে পলি জমায় এবং করোনারি ধমনির ভেতরে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং জন্ম হয় হার্ট অ্যাটাক নামের একটি আতঙ্কিত রোগের, যার পরিণাম নিশ্চিত মৃত্যু; যদি একে সঠিক সময়ে চিকি ৎ সা করা না যায়। বলা হয়ে থাকে, বুকে ব্যথা হলে রোগীকে সরাসরি ‘ক্যাথল্যাবে’ নিতে হবে এবং এনজিওগ্রাম করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একজন বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টের মাধ্যমে চিকি ৎ সা সম্পন্ন করাতে হবে। কিন্তু ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তো আর সেই সুযোগ নেই।
তাই প্রয়োজন অধিক সচেতনতা, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং বছরে কমপক্ষে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। তবে ঢাকায়ও যে অঘটন ঘটছে না, তা কিন্তু নয়! একটা ঘটনা বলছি, চার-পাঁচ দিন আগে, রাত দুইটা বাজে। ঝড়ের বেগে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকল। রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনেরা উদ্বিগ্ন ও উ ৎ কণ্ঠায়! ট্রলিতে ওঠানোর সময় রোগীর গায়ে আমার হাতের স্পর্শেই শীতল নিথর দেহের অনুভূতি পেলাম। বুঝলাম, সব শেষ হয়ে গেছে! তবু জরুরি বিভাগে সব ভাইটাল সাইন পরীক্ষা করে জানালাম যে চল্লিশোর্ধ্ব এই ভদ্রলোক অনেকক্ষণ আগেই মারা গেছেন। কী হয়েছিল—জানতে চাইলে স্বজনেরা বললেন, সন্ধ্যা থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। তারপর নিজেই দোকানে গিয়ে রেনিটিডিন ওষুধ কিনে খেয়েছিলেন। পরে তাঁর নিজের রুমে কখন যে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে গেছেন, কেউ জানে না! জিজ্ঞেস করলাম, তাঁর কি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হার্টের কোনো অসুখ ছিল? উত্তরে জানা গেল, না, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু চিকি ৎ সক হিসেবে বলব, তিনি অবশ্যই সুস্থ ছিলেন না। তাঁর হার্টের রক্তনালিতে হয়তো অজানা ব্লক ছিল, যার কোনো উপসর্গ এত দিন অনুভূত হয়নি বলে তিনি কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাননি। আমি যে বিষয়টি বোঝাতে চাইছি তা হলো, নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া, নিয়মিত চিকি ৎ সকের কাছে যাওয়া এবং হেলথ চেকআপ করা আর না-করার পার্থক্য বোঝানোর জন্য বোধ করি উপরিউক্ত ঘটনাটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত! কীভাবে ভালো থাকবেন?
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল থাকতে হবে। অলিভ অয়েল, বাদামতেল, সয়াবিন তেল, চীনাবাদাম, সামুদ্রিক মাছ, বিশেষ করে ইলিশ মাছ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কারণ, এতে ‘ওমেগা ত্রি ফ্যাটি এসিড’ নামের একধরনের ভালো চর্বি থাকে।
শরীরটাকে সুস্থ রাখতে হলে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট বা আড়াই ঘণ্টা কায়িক পরিশ্রম করতে হবে এবং তা ক্রমাগত বাড়াতে হবে। শিশুদের ভিডিও গেম, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে না দিয়ে বাইরে খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় মোটা শিশু বা ‘চাইল্ড হুড ওবেসিটি’ এক ভয়াবহ ব্যাধিতে রূপ নেবে।
এবার জানুন কী কী খাবেন না—কাঁচা লবণ, গরু ও খাসির মাংস (রেড মিট), ডিমের কুসুম, গলদা চিংড়ি, ঘি, মাখন, পনির, মালাই, আইসক্রিম, ফুলক্রিম, বেকারি বিস্কুট, কেক পেস্ট্রি যত কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল। কারণ, এগুলো মুখরোচক খাবার ছাড়া কিছুই নয়।
যেসব ধূমপায়ী হূদেরাগ, ফুসফুসে ক্যানসার হবে জেনেও এখনো এই অভ্যাসটি ছাড়েননি, তাঁদের জন্য একটা দুঃসংবাদ—সেটা হলো, সিগারেট থেকে ‘পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিজ’ বা ‘বার্জার্স ডিজিজ’ নামে পায়ের এক অসুখ হয়, যার চিকি ৎ সা ওই পা কেটে ফেলে দেওয়া! সুতরাং ধূমপান ছাড়ার জন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।
যাঁদের ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অসুখ রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই মনোবল অটুট রেখে নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে এবং তা যথাযথ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অনেকে যখন-তখন প্রেশারের ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মতো দুর্ঘটনা ঘটে। তাই আপনার চিকি ৎ সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা বন্ধ করবেন না। পরিশেষে বলছি, সামান্য কটি অর্থের জন্য নিজের শরীরকে ঝুঁকিতে রাখবেন না। যেকোনো উপসর্গকে গুরুত্ব দিন, আপনার চিকি ৎ সকের পরামর্শ নিন, কমপক্ষে বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং মুক্ত থাকুন আকস্মিক মৃত্যুর হাত থেকে। কারণ, আপনি একা নন, আপনার দিকে তাকিয়ে আছে পরিবার-পরিজন। তাই হাসিমুখ চাই সবার।
আশীষ কুমার চক্রবর্তী
পরিচালক,
আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজ্ড হসপিটাল,
ঢাকা।
সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো

ঘাড়ে ও হাতে ব্যথা

‘দোস্ত, আমাকে বাঁচাও’ বলে হাত উঁচু করে, ঘাড় কাত করে দশাশই চেহারার মিরাজ ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকে। তার এ অবস্থা দেখে ডাক্তার প্রথমে বিচলিত বোধ করলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে চিকিৎসা শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা পর রোগী একটু স্বস্তি অনুভব করে। পরের দিন এমআরআই পরীক্ষা শেষে ঠিক হয়, আপাতত অপারেশন লাগছে না। বন্ধু মিরাজের স্ত্রী চেম্বারে এসে ছলছল নয়নে জানতে চায়, মিরাজের কী হয়েছে? উত্তরে তাকে ডাক্তার বুঝিয়ে বলেন, মাথার খুলি থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত স্পাইনাল কলাম বা মেরুদণ্ড ৩২টি ভার্টিব্রার সমন্বয়ে গঠিত, এর মধ্যে ঘাড়ের অংশ সাতটি স্রাভাইকাল ভার্টিব্রা। মেরুদণ্ডের ভেতর এক দীর্ঘ নলাকার জায়গা একে স্পাইনাল ক্যানাল বলে।
এই ক্যানালের ভেতরে স্পাইনালকর্ড থাকে, যার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অংশের ভেতরে তথ্যের আদান-প্রদান হয়ে থাকে। মেরুদণ্ডের ভার্টিব্রাগুলোর মাঝে ক্যারম বোর্ডের ঘুঁটির আকারের নরম ডিস্ক থাকে, যার জন্য মানুষ সামনে-পেছনে-পাশে বাঁকা হতে পারে। চলাফেরার সময় ডিস্ক স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে। প্রতি জোড়া ভার্টিব্রার মধ্যে স্পাইনাল ফোরামেন নামের এক জোড়া ছিদ্র থাকে, এ পথ দিয়ে প্রতি লেভেলে এক জোড়া করে স্পাইনাল নার্ভ বাইরে বেরিয়ে আসে। হাত পায়ের অনুভূতি (ঠান্ডা-গরম, ব্যথা), নাড়াচাড়া—সবকিছু স্পাইনাল কর্ড ও নার্ভের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এক কথায় এটা শরীরের ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে। যদি কোনোভাবে এই নার্ভ কর্ডে চাপ পড়ে, তাহলে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। ভাই, এটা কি ক্যানসার, ও বাঁচবে তো? ডাক্তারের উত্তর, ভাবি, একদম নিশ্চিন্ত থাকেন, এটা কোনো ক্যানসার নয়, তবে ক্যানসার রোগীদের এমন ব্যথা হতে পারে। ক্যানসার থেকে হাড় বসে গেলে এমআরআইতে দেখা যেত। আমি আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।
একটা ব্যাপার ভাই আমার মাথায় কিছুতেই আসছে না! কী ব্যাপার, বলুন? আপনি বলছেন ঘাড়ে সমস্যা, কিন্তু ওর ব্যথা তো হাতে। স্মিত হেসে ডাক্তার বলেন, আচ্ছা একটা কথা চিন্তা করুন, বিদ্যুৎ তৈরি হলো ঘোড়াশালে, বাতি জ্বলছে এখানে। কিন্তু মাঝপথে তার ছিঁড়ে গেলে কি হবে? সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর আসে, কেন এ রুমের বাতি নিভে যাবে। এই তো ঠিক বলেছেন, ব্রেন মূল কেন্দ্র ঘাড় হয়ে হাতের ভেতরে আসা নার্ভ বিদু্যুতের লাইন, তাই লাইনে চাপ পড়লে হাত-পায়ের ভেতরে লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুরুতে ঘাড়ে কিছু ব্যথা থাকে, ঘাড় বাঁকা করে দীর্ঘ সময় কাজ করলে সে ব্যথা শিরশির করে হাতের আঙুল বরাবর নামে, কখনো অবশ বা ঠান্ডা-গরম বা পিঁপড়া হাঁটার মতো অনুভূতি হতে পারে। এরপর আসে তীব্র ব্যথা, তখনো চিকিৎসা না হলে হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া, এমনকি মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
এমন কি কোনো নিয়ম আছে, যাতে এ রোগ না হয়? অবশ্যই কিছু নিয়ম আছে, যেমন ভারী ওজন বহন করা যাবে না (হাতেও না, মাথায়ও না), পানি তোলা যাবে না, ঘাড় বাঁকা করে দীর্ঘ সময় কাজ করা যাবে না (ড্রাইভিং, ড্রিল মেশিনে কাজ করা, সেলাই করা, নিচু টেবিলে লেখা, ছবি আঁকা), বাটনা করা, কুলা দিয়ে ঝাড়া, দা-কোদাল-কুঠার-খন্তা প্রভৃতি দিয়ে কোপাকুপি করা, টিউবওয়েল চাপা নিষেধ। কম্পিউটারের মনিটর, টেলিভিশন প্রভৃতি চোখের লেভেলে নিয়ে আসতে হবে। মাথায় পাতলা বালিশ দিয়ে ঘুমাতে হবে। ম্যাসাজ করানো যাবে না, তবে গরম পানির সেঁক বেশ উপকারী। ব্যথা কমে গেলে ঘাড়ের ব্যায়ামে সুফল পাওয়া যায়। এসবের পাশাপাশি চলাফেরার সময়ে ঘাড়ে একটি কলার পরতে হবে ও ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। আর এ ধরনের চিকিৎসায় কাজ না হলে ঘাড়ে অপারেশন করে নার্ভের চাপ কমিয়ে দিলে অত্যন্ত সুফল পাওয়া যায়।
সুদীপ্ত কুমার মুখার্জি
জুনিয়র কনসালট্যান্ট (নিউরোসার্জারি)
শহীদ শেখ আবু নাসের স্পেশালাইজড হাসপাতাল, খুলনা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

যেমন বাড়ছে ডায়াবেটিস, তেমনি বাড়ছে কিডনি রোগ, তাই…

সম্প্রতি আমেরিকায় এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকান জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ বাড়ছে।
ডায়াবেটিস আছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ শতাংশের হচ্ছে কিডনি রোগ। এই জটিলতাটি গুরুতর তো বটেই, এর সঙ্গে হূদ্যন্ত্র ও রক্তনালি রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
ডায়াবেটিক কিডনি রোগ থেকে ক্রমে হয় প্রান্তিক ধাপের কিডনি রোগ, যখন রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা ক্ষেত্রভেদে ট্রান্সপ্লাট করে বাঁচাতে হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখলেন, ১৯৮৮ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ডায়াবেটিক কিডনি রোগ বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। আর যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীও বাড়ছে, তাই ডায়াবেটিক কিডনি রোগীও বাড়ছে। এমন একটি চিত্র অন্যান্য দেশেও পাওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের গবেষণার বিষয় এটি। ডায়াবেটিসের উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পরও এ চিত্রটির তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। গত দুই দশকে এত উন্নত চিকিৎসার পরও এমন চিত্রটি আশাব্যঞ্জক হচ্ছে না বিজ্ঞানীদের কাছে। অনেক বেশি ডায়াবেটিক রোগী রক্তের সুগার কমাতে এবং কোলস্টেরল কমাতে ওষুধ নিচ্ছেন এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমাতে রেনিন-এনজিওটেনসিন-এলডোস্টেরোন সিসটেমরোধক ওষুধ নিচ্ছেন, যা কিডনিরও সুরক্ষা করে বলে বিশ্বাস।
অন্তত বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভালো ফলও পাওয়া যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, রক্তের গ্লুকোজ, রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলস্টেরল এলডিএলের গড় মান সবই কমেছে ডায়াবেটিক রোগীদের, এমন ওষুধ খাওয়ার পর। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে কিডনি রোগের প্রভাব যে কমেছে তা নয়। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক সহ-অধ্যাপক আযান এইচ ডি বোয়ের বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, এমন পন্থা অবলম্বন করে ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে কিডনি রোগ কমবে, কিন্তু তা তো হলো না। তাই আমাদের অন্য উপায় খুঁজতে হবে। হয়তো ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে বা নতুন উপায়ে ডায়াবেটিক কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে।’
ডায়াবেটিস চিকিৎসা এবং
ডায়াবেটিসের উন্নত চিকিৎসার পরও ডায়াবেটিক কিডনি রোগের ঘটনা কেন দমানো যাচ্ছে না তা গবেষকদের ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হয়তো বা এমন হচ্ছে যে ডায়াবেটিসের সুচিকিৎসার জন্য কিডনির স্বাস্থ্য বজায় থাকছে আরও দীর্ঘকাল মাত্র, বিলম্বিত হচ্ছে কিডনি রোগ, জীবনের প্রান্তসীমা পর্যন্ত… বলেন পিটাসবার্গ গ্র্যাজুয়েট স্থল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ট্রেভর জে অর্চার্ড। আগে চিকিৎসকদের বিশ্বাস ছিল ডায়াবেটিস নিয়ে যে লোক ২৫ বছরের বেশি দিন বেঁচে কিডনি রোগে আক্রান্ত হননি, তাঁর আর কিডনি রোগ হবে না। কিন্তু সে ধারণা পালটেছে, হয়তো ২০-৩০ বছর পর্যন্ত এভাবে কিডনি রোগ ঠেকানো গেল, কিন্তু এরপর বাড়ছে কিডনি রোগ, মনে হতো আগে আর সে রোগ হবেই না।
তবে এত বছর কিডনি রোগ ঠেকানো গেল কীভাবে? রক্তের গ্লুকোজের সুনিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপের সুনিয়ন্ত্রণ ও এসিই রোধ আরও ভালো হওয়ার জন্যই এমন হয়েছে, বলেন অধ্যাপক অর্চার্ড।
গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা কিডনি রোগের দুটো সূচক পরীক্ষা করে দেখেছেন, মূত্রে আছে এলবুমিন ও জিএফআর। জিএফআর দিয়ে বোঝা যায় রক্ত থেকে বর্জ্য কিডনি কত দ্রুত সরাতে পারে। এগুলো হলো কিডনি রোগের চিহ্ন ও সূচক।
দুই দশক কাল পর্যালোচনা করে ডি বোয়ের দেখলেন, মূত্রে প্রোটিন একটু কমেছে, কিন্তু জিএফআর বা কিডনি ফ্যাংশনের অবনতি হয়েছে।
হয়তো ডায়াবেটিসের উন্নত চিকিৎসায় মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ কমেছে কিন্তু জিএফআরের তেমন উন্নতি হয়নি।
জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এ সম্প্রতি প্রকাশিত এ নিবন্ধে যেসব ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, তা আরও ব্যাপকভাবে গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস,
বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক,
ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

Thursday, July 28, 2011

ভালো খাবার, ভালো স্বাস্থ্য

healthy-foods
কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার আছে, যেগুলো সব পুষ্টিবিদের পরামর্শে থাকে। তবুও এমন খাবার রয়ে যায় এদের আড়ালে, যেগুলো খুব পুষ্টিকর হলেও সমাদর নেই এদের, নজরও নেই এদের প্রতি।
খাবার জন্য ভালো ভালো খাদ্য বেছে নেওয়া সহজ কাজ নয়। ছয়টি খাবারের কথা বলি, যেগুলোর সমাদর নেই, তবে খাবারে যোগ করলে খুব পুষ্টিকর হবে বেলার খাবার। ভালো খাবারের নানা সংজ্ঞা।
খাবারটি গোটা খাবার হবে, হোল ফুড। কেবল তাই? খাবার হবে প্রিয়, পরিচিত, সহজলভ্য, পুষ্টিতে ঠাসা, দামেও সস্তা, স্বাদুও হতে হবে। আমরা ব্লু বেবি, বাদাম, স্যামন মাছ—এসবকে সুপার ফুড মনে করি। কিন্তু সমাদর নেই এমন খাবার হতে পারে তারকা খাবার।
১) শিম ও ডালজাতীয় খাবার: মুদির দোকানে গেলে অনেকে এদের কেনেন, আবার কারও কাছে এদের আদর নেই। শিম হলো সুপারস্টার প্রোটিন, আঁশ, জটিল শর্করা, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও দস্তা। সপ্তাহে তিন কাপ শিম খেলে বেশ ভালো। ‘নিউট্রিশন অ্যাট ইওর ফিঙ্গারটিপস’ বইটি লিখে খ্যাত ইলিসাজায়েড বলেন, ডাল ও শুটিসমৃদ্ধ খাবার খেলে ওজন হ্রাস হয়, কমে হূদক্ষতিকর এলডিএল ও বাড়ে এইচডিএল। ভালো স্বাদু খাবার। সবজি সঙ্গে স্যুপ ও স্টু, সালাদে খাওয়া যায় বিনস ও ডাল।
২) তরমুজ: গ্রীষ্মের জনপ্রিয় খাদ্য হলো তরমুজ। প্রাণহরা, তৃষাহরা। মিষ্টি বলে অনেকে ‘চিনি খাবার’ মনে করে খান না। তা নয় কিন্তু। এক্সপেকট দি বেস্ট বই লিখে খ্যাত এলিজাবেথ ওয়ার্ড বলেন, সবার খাবারে থাকবে তরমুজ। খেতে মজা, মিষ্টি, রসাল। লো-ক্যালরি, ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও লাইকোপ্যানে ভরপুর। এতে আছে প্রচুর পানি, তাই শরীরের পানির চাহিদাও পূরণ করে।
৩) মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলু মিষ্টি বলে অনেকে মনে করেন হাই-ক্যালরি ও শর্করাভর্তি, তা ঠিক নয় কিন্তু। আমেরিকান ডায়েট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হিথার ম্যানগিয়ারি বলেন, ‘মিষ্টি আলু হলো পুষ্টির বিচারে তারকা খাবার, সেরা সবজিগুলোর অন্যতম। এতে আছে প্রচুর বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন সি, আঁশ, পটাশিয়াম। সেঁকে, হালকা ভেজে, ভাপে সেদ্ধ করে, সবজি রান্না করে কত ভাবেই না খাওয়া যায় মিষ্টি আলু। আমার স্ত্রী চমৎকার নিরামিষ রাঁধেন এবং তাঁর প্রায় সব সবজি রেসিপিতে থাকে মিষ্টি আলু, আর এটি যোগ করলে খুব স্বাদু হয় নিরামিষ।
৪) লাল বাঁধাকপি: কসিফেরাস সবজির অন্যতম লাল বাঁধাকপিতে আছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন এ, ডি, কে ও ফলেট, অনেক খনিজ এবং এক কাপ বাঁধাকপি কুচিতে রয়েছে মাত্র ২২ ক্যালরি। প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এতে, ক্যানসাররোধী গুণ। খাওয়া যায় কাঁচা, সেদ্ধ, ভাপে সেদ্ধ, রান্না স্যুপে, স্যালাতে, সবজিতে, স্যান্ডউইচে। খাবারও হবে বর্ণিল।
৫) টমেটো।
জর্জিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস ক্রিস রজেন ব্লুম বলেন, ‘অনেকে বলেন, কাঁচা এবং সেদ্ধ না করে টমেটো ভালো, কিন্তু টমেটো রান্না করলে এ থেকে বেরিয়ে যায় কিছু রোগ প্রতিরোধী লাইকোপ্যান, তাই দেহে এর শোষণ হয় ভালো।
২০০৯ সালে জার্নাল অব অনকোলজিতে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে দেখা যায়, টমেটোসমৃদ্ধ খাবার খেলে রোধ করা যায় প্রোস্টেট ক্যানসার এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লাইকোপ্যান রোধ করে অন্যান্য ক্যানসারও। টিনজাত টমেটোও কম পুষ্টিকর নয়। তাজা টমেটো আরও ভালো।
৬) সহজ, সরল, চর্বিহীন দুধের দধি
ঘরে পাতা টক দই। সর তুলে নিয়ে চর্বিহীন দুধের দধি। কাঁচা টক দই। দধিতে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আমিষ, দস্তা, ভিটামিন বি৬, বি১২, প্রোবায়োটিক কালচার। সজীব জীবাণু। ল্যাকটোজ কম, আমিষ বেশি। কমে কোলস্টেরল, সহজ পাচ্য। স্বাস্থ্যকর।
শুভাগত চৌধুরীর
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস
বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক
ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Facebook Themes