Total Pageviews

Showing posts with label Thesis. Show all posts
Showing posts with label Thesis. Show all posts

Thursday, July 28, 2011

ভালো খাবার, ভালো স্বাস্থ্য

healthy-foods
কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার আছে, যেগুলো সব পুষ্টিবিদের পরামর্শে থাকে। তবুও এমন খাবার রয়ে যায় এদের আড়ালে, যেগুলো খুব পুষ্টিকর হলেও সমাদর নেই এদের, নজরও নেই এদের প্রতি।
খাবার জন্য ভালো ভালো খাদ্য বেছে নেওয়া সহজ কাজ নয়। ছয়টি খাবারের কথা বলি, যেগুলোর সমাদর নেই, তবে খাবারে যোগ করলে খুব পুষ্টিকর হবে বেলার খাবার। ভালো খাবারের নানা সংজ্ঞা।
খাবারটি গোটা খাবার হবে, হোল ফুড। কেবল তাই? খাবার হবে প্রিয়, পরিচিত, সহজলভ্য, পুষ্টিতে ঠাসা, দামেও সস্তা, স্বাদুও হতে হবে। আমরা ব্লু বেবি, বাদাম, স্যামন মাছ—এসবকে সুপার ফুড মনে করি। কিন্তু সমাদর নেই এমন খাবার হতে পারে তারকা খাবার।
১) শিম ও ডালজাতীয় খাবার: মুদির দোকানে গেলে অনেকে এদের কেনেন, আবার কারও কাছে এদের আদর নেই। শিম হলো সুপারস্টার প্রোটিন, আঁশ, জটিল শর্করা, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও দস্তা। সপ্তাহে তিন কাপ শিম খেলে বেশ ভালো। ‘নিউট্রিশন অ্যাট ইওর ফিঙ্গারটিপস’ বইটি লিখে খ্যাত ইলিসাজায়েড বলেন, ডাল ও শুটিসমৃদ্ধ খাবার খেলে ওজন হ্রাস হয়, কমে হূদক্ষতিকর এলডিএল ও বাড়ে এইচডিএল। ভালো স্বাদু খাবার। সবজি সঙ্গে স্যুপ ও স্টু, সালাদে খাওয়া যায় বিনস ও ডাল।
২) তরমুজ: গ্রীষ্মের জনপ্রিয় খাদ্য হলো তরমুজ। প্রাণহরা, তৃষাহরা। মিষ্টি বলে অনেকে ‘চিনি খাবার’ মনে করে খান না। তা নয় কিন্তু। এক্সপেকট দি বেস্ট বই লিখে খ্যাত এলিজাবেথ ওয়ার্ড বলেন, সবার খাবারে থাকবে তরমুজ। খেতে মজা, মিষ্টি, রসাল। লো-ক্যালরি, ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও লাইকোপ্যানে ভরপুর। এতে আছে প্রচুর পানি, তাই শরীরের পানির চাহিদাও পূরণ করে।
৩) মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলু মিষ্টি বলে অনেকে মনে করেন হাই-ক্যালরি ও শর্করাভর্তি, তা ঠিক নয় কিন্তু। আমেরিকান ডায়েট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হিথার ম্যানগিয়ারি বলেন, ‘মিষ্টি আলু হলো পুষ্টির বিচারে তারকা খাবার, সেরা সবজিগুলোর অন্যতম। এতে আছে প্রচুর বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন সি, আঁশ, পটাশিয়াম। সেঁকে, হালকা ভেজে, ভাপে সেদ্ধ করে, সবজি রান্না করে কত ভাবেই না খাওয়া যায় মিষ্টি আলু। আমার স্ত্রী চমৎকার নিরামিষ রাঁধেন এবং তাঁর প্রায় সব সবজি রেসিপিতে থাকে মিষ্টি আলু, আর এটি যোগ করলে খুব স্বাদু হয় নিরামিষ।
৪) লাল বাঁধাকপি: কসিফেরাস সবজির অন্যতম লাল বাঁধাকপিতে আছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন এ, ডি, কে ও ফলেট, অনেক খনিজ এবং এক কাপ বাঁধাকপি কুচিতে রয়েছে মাত্র ২২ ক্যালরি। প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এতে, ক্যানসাররোধী গুণ। খাওয়া যায় কাঁচা, সেদ্ধ, ভাপে সেদ্ধ, রান্না স্যুপে, স্যালাতে, সবজিতে, স্যান্ডউইচে। খাবারও হবে বর্ণিল।
৫) টমেটো।
জর্জিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস ক্রিস রজেন ব্লুম বলেন, ‘অনেকে বলেন, কাঁচা এবং সেদ্ধ না করে টমেটো ভালো, কিন্তু টমেটো রান্না করলে এ থেকে বেরিয়ে যায় কিছু রোগ প্রতিরোধী লাইকোপ্যান, তাই দেহে এর শোষণ হয় ভালো।
২০০৯ সালে জার্নাল অব অনকোলজিতে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে দেখা যায়, টমেটোসমৃদ্ধ খাবার খেলে রোধ করা যায় প্রোস্টেট ক্যানসার এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লাইকোপ্যান রোধ করে অন্যান্য ক্যানসারও। টিনজাত টমেটোও কম পুষ্টিকর নয়। তাজা টমেটো আরও ভালো।
৬) সহজ, সরল, চর্বিহীন দুধের দধি
ঘরে পাতা টক দই। সর তুলে নিয়ে চর্বিহীন দুধের দধি। কাঁচা টক দই। দধিতে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আমিষ, দস্তা, ভিটামিন বি৬, বি১২, প্রোবায়োটিক কালচার। সজীব জীবাণু। ল্যাকটোজ কম, আমিষ বেশি। কমে কোলস্টেরল, সহজ পাচ্য। স্বাস্থ্যকর।
শুভাগত চৌধুরীর
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস
বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক
ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

সেরেব্রাল পলসি

রাস্তার একপাশ দিয়ে অবনতমস্তক এক তরুণ অদ্ভুত এক আড়ষ্ট ভঙ্গিতে হেঁটে যাচ্ছে। একটা হাত ভাঁজ করে বুকের কাছে রাখা, একই দিকের পাও সে টেনে টেনে চলছে। হাঁটু ও কোমর একটু বাঁকা করে। মুখ থেকে লালা গড়িয়ে পড়ছে—এমন দৃশ্য মাঝেমধ্যে আপনার নজরে পড়তেই পারে। এমনটি যদি হয়, তবে সম্ভবত ওই তরুণটি সেরেব্রাল পলসি রোগে ভুগছে।
কোন শিশুদের হতে পারে
নির্দিষ্ট সময়ের আগেই যাদের জন্ম।
জন্মের সময় যাদের ওজন খুব কম থাকে।
জন্মের পরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া শিশু।
সমস্যাযুক্ত প্রসব বা প্রসবে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া।
রোগের কারণ
 গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগ, নেশাসক্তি বা কিডনিজনিত রোগ।
 জন্মের সময় কোনো কারণে যদি শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেন ঘাটতি হয়।
 জন্মের পর মেনিনজাইটিস, খিঁচুনি, দুর্ঘটনা ইত্যাদি।
কেমন করে বোঝা যাবে
সাধারণত জন্মের পর পর তেমন কিছু বোঝা যায় না। তবে শিশু যখন সঠিক সময়ে বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না এবং শিশুর জন্মকালীন ইতিহাস যদি ওপরের বর্ণনামতো হয়, তবে ধারণা করা যেতে পারে যে শিশুটির সেরেব্রাল পলসি থাকতে পারে।
চিকিৎসা
সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর অবস্থা উন্নত করা গেলে, রোগী নিজের জীবন-জীবিকার জন্য পরনির্ভরশীল না থেকে স্বাবলম্বী হতে পারে এবং পরিবার, সমাজ সর্বোপরি দেশ একজন অক্ষম মানুষের বোঝামুক্ত হয়ে সক্ষম এক মানুষের সাহায্য লাভ করতে পারে। সেরেব্রাল পলসির চিকিৎসা একটা সমন্বিত ব্যাপার এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ, ফিজিওথেরাপিস্ট, সমাজকর্মী—সবাই মিলেই সমন্বিতভাবে এই চিকিৎসা করতে হয়।
চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্যই থাকে রোগীর যা অবস্থা আছে তা থেকে কিছুটা ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া অর্থাৎ যে হুইল চেয়ারেই বসতে অক্ষম, তাকে হুইল চেয়ারে বসতে সমর্থ করা, যে হাঁটতে অক্ষম তাকে হাঁটতে সক্ষম করা ইত্যাদি। চিকিৎসা শুরু হতে হয় যখন রোগটা নিরূপণ করা হয় তখন থেকেই। এবং ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা বিশেষ ধরনের জুতা ও অর্থোটিক্স এবং অর্থোপেডিক সার্জারি—এ ধরনের এক বা একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োজন পড়ে সেরেব্রাল পলসির চিকিৎসায়। অর্থোপেডিক সার্জারির মাধ্যমে আজকাল রোগীর চলাফেরা ও জীবন ধারণ অনেকখানিই সহজ করা যায়। বিশেষ করে যাদের দুই পা আক্রান্ত (Diplegia) অথবা এক দিকের হাত ও পা আক্রান্ত আছে, তাদের ক্ষেত্রে সার্জারির ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। সবাই মিলে হাত বাড়িয়ে দিলেই এই প্রায় অক্ষম মানুষগুলো অনেকখানি কর্মক্ষম হয়ে দেশ ও সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে পারে। আমাদের স্বপ্নের সোনার দেশে এই ভাগ্যাহত মানুষগুলোকে যেন আমরা ভুলে না যাই।
সারওয়ার ইবনে সালাম
শিশু অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

স্কুলব্যাগ বেশি ভারী নয় তো!

school-bag
সিনান (ছদ্মনাম) কেজি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। ক্লাসের ফার্স্টবয়। স্কুলে পাঠ্যবই অনেক। হাতে করে সব বই স্কুলে নিয়ে যাওয়া বা নিয়ে আসা সিনানের পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া আছে স্কুলের এবং বাড়ির কাজের নানা খাতা, পেনসিল বক্স, টিফিন বক্স, পানির বোতল। তাই সাহায্য নিতে হয় স্কুলব্যাগের। বই, খাতা, পেনসিল বক্স, টিফিন বক্স, পানির বোতল, খেলার সরঞ্জাম—সব মিলিয়ে বেশ ভারী হয়ে যায় স্কুলব্যাগটা। ব্যাগের ভারে ওর হাঁটতে কষ্ট হয়। শরীর বাঁকা হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে পিঠব্যথা, ঘাড়ব্যথা, হাতব্যথার কথা বলে মায়ের কাছে।
শুধু সিনানই নয়, বাচ্চাদের স্কুলের সব ছাত্রই স্কুলব্যাগে করে বইপত্র আনা-নেওয়া করে এবং এদের অনেকেরই এ রকম শারীরিক সমস্যা হয়।
১৬-১৭ বছর বয়সের আগে শিশুর শরীরের হাড়, মেরুদণ্ডের হাড়ের জোড়ার লিগামেন্ট, মাংসপেশি—এসবের বিকাশ লাভ পরিপূর্ণ হয় না। কম বয়সে নিয়মিত বাড়তি ওজন বয়ে বেড়ালে এসবের বিকাশলাভে যেমন বিঘ্ন ঘটে, তেমনি দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। গবেষকদের মতে, বইখাতাভর্তি স্কুলব্যাগের ওজন বাচ্চার শরীরের ওজনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি যেন না হয়। আপনার সন্তানের ওজন ২০ কেজি হলে তার স্কুলব্যাগের ওজন দুই-তিন কেজির বেশি করা যাবে না। বেশি হলে এবং দিনের পর দিন এভাবে ব্যাগ বহন করলে তার মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যেতে পারে; কাঁধে, ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা করতে পারে, যা পরে বড় হলেও থেকে যেতে পারে। মেরুদণ্ডে আছে পরপর সাজানো ৩৩টি কশেরুকা। দুই কশেরুকার ফাঁকে ফাঁকে আছে স্পঞ্জের মতো চাকতি। বেশি ভারে এসব চাকতি চ্যাপ্টা হয়ে যাবে। মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যাবে।
মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক অবস্থায় একপাশ থেকে দেখলে ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মতো দেখায় অনেকটা। ঘাড়ের অংশ সামনের দিকে, পিঠের অংশ পেছনের দিকে, আবার কোমরের অংশ সামনের দিকে এবং নিতম্বের অংশ পেছনের দিকে বাঁকা। এটা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা। বসা বা দাঁড়ানো অবস্থায় আমাদের মেরুদণ্ডের এই স্বাভাবিক বক্রতাকে ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় হাড়, জোড়া, লিগামেন্ট ও মাংসপেশিতে চাপ পড়বে। মেরুদণ্ড, পিঠ ও কোমরব্যথাসহ নানা সমস্যা দেখা দেবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুঁজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যাবে। স্কুলব্যাগের বইপত্রের ভারে আপনার সন্তান যদি সামনের দিকে বা পেছনের দিকে কিংবা ডানে অথবা বাঁয়ে বাঁকা হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে, স্কুলব্যাগটি বেশি ভারী হয়ে গেছে।
এ ছাড়া ব্যাগের ফিতার চাপে কাঁধ ফুলে যেতে পারে। এমনকি কাঁধে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। বাচ্চার কাঁধে, ঘাড়ে বা পিঠে ব্যথা হবে, পিঠ বাঁকা হয়ে যাবে। বাহু বা হাতেও ব্যথা হতে পারে। ঝিমঝিম করতে পারে হাতে।
এসব হলে বুঝতে হবে, ব্যাগের ওজন বেশি হয়ে গেছে।
 স্কুলব্যাগের ভারে ছোট্ট শিশুটির শারীরিক কোনো ক্ষতি যেন না হয়, সে জন্য বাবা-মাকে একটু সতর্ক হতে হবে।
 কিনতে হবে অপেক্ষাকৃত কম ওজনের কাপড়ের ব্যাগ। ব্যাগে ধাতব রিংয়ের বাড়তি ওজন যেন না থাকে।
 সরু ফিতার নয়, মোটা ফিতার ব্যাগ ভালো। সরু ফিতা কাঁধে দেবে যাবে বেশি, ব্যথা হবে।
 পিঠে ঝোলানো যায় এমন ব্যাগ ভালো। তাতে ব্যাগের ওজন ঠিকমতো পায়ের দিকে সঞ্চালিত হতে পারে। শরীর বাঁকা হবে না। এক কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে নিলে শরীর একদিকে বাঁকা হয়ে যাবে। মেরুদণ্ডে ব্যথা হবে। মেরুদণ্ড বাঁকা হবে।
 দুই হাতে ওঠাতে হবে ব্যাগ। সন্তানের দুই হাত ব্যাগের দুই ফিতার ভেতর দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে ব্যাগটা তার পিঠে ঝুলিয়ে দিতে হবে।
 ব্যাগের ফিতাগুলো যেন লম্বা না হয়। পিঠে ঝুলন্ত ব্যাগ যেন বাচ্চার ঠিক কোমরে এসে পড়ে। তাহলে বইভর্তি ব্যাগের ওজন কোমরে এসে পড়বে এবং দুই পা বেয়ে মাটিতে পতিত হবে, মেরুদণ্ডে চাপ পড়বে কম।
 ব্যাগের নিচের অংশ ফিতা দিয়ে কোমর বরাবর বেঁধে দিতে পারলে আরও ভালো। তাতে পিঠে বাড়তি চাপ পড়বে না। পিঠ বাঁকা হবে না। কোমরের নিচে ব্যাগ ঝুলতে থাকলে ব্যাগের ওজন পিঠ বাঁকা করে মাটির দিকে ধাবিত হবে এবং পিঠ বাঁকা হয়ে যাবে, ব্যথা হবে।
 ব্যাগে বেশি পকেট থাকলে ভালো। তাহলে ব্যাগের মোট ওজন ব্যাগের বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দেওয়া যাবে। শরীরের দুই দিকে সমান চাপ পড়বে।
 মাথায় বিদ্যার বোঝা বেশি চাপাতে গিয়ে পিঠে ব্যাগের বোঝা যেন বেশি হয়ে না যায়, এ ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখা দরকার শিক্ষকদেরও।
মো. শহীদুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজড্ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

পান-সুপারি

পান-সুপারি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। সেই পুরোনো আমল থেকেই চলে আসছে পান-সুপারির রীতি। পান-সুপারি শরীরের জন্য উপকারী হলেও পানের সঙ্গে চুন, জর্দা ও খয়ের দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। স্থূলকায় ব্যক্তিদের অতিরিক্ত ক্ষুধা দূর করার জন্য কাজ করে পানপাতা। পান-সুপারি উভয়েই মাথাব্যথা (বিশেষত সায়নোসাইটিস, মাইগ্রেনের ব্যথা, ঠান্ডাজনিত ব্যথা) ভালো করে। মুখের লালা খাবারের সঙ্গে মিশে খাবার হজম করতে সাহায্য করে। চুন, জর্দা, খয়েরে ক্ষতির পরিমাণই বেশি। পানের সঙ্গে এলাচ, লবঙ্গ, সুপারি, মৌরি, গরম মসলা ও ধনিয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সন্তান প্রসবের পর জননতন্ত্রের জীবাণু দূর করার জন্য কুসুম গরম পানিতে পানপাতা ভিজিয়ে সেই পানি ব্যবহার করলে কাটা অংশগুলো দ্রুত শুকায় এবং ব্যথা দূর হয়। পানের মতো সুপারিতেও রয়েছে অ্যালকালয়েড অ্যারিকোলিন নামের উপকরণ, যা লালা তৈরিতে সাহায্য করে। লালা এক ধরনের পাচক রস। পাচক রস খাবার দ্রুত হজম করে, মুখের জীবাণু ধ্বংস করে। পান-সুপারি বা পানপাতা চিবোনোর পর খেয়াল রাখতে হবে, যেন দাঁতের ফাঁকে জমে না থাকে। যেকোনো খাবার দাঁতের ফাঁকে জমে, পচে ডেন্টাল ক্যারিজ (দাঁতের ক্ষয়জনিত বা ইনফেকশনজনিত অসুখ) তৈরি করে। অতিরিক্ত পরিমাণে পান, চুন, জর্দা, খয়ের ও তামাকপাতা খেলে মুখের নানা অসুখ, এমনকি ক্যানসারও হতে পারে। তবে উপকারের আশায় পান বেশি খেলে ফুসফুস ও পাকস্থলীর ক্ষতি হয়।
ফারহানা মোবিন
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

Thursday, July 14, 2011

ফলমূল মাছ-মাংসে রাসায়নিক: হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

chemicals-in-foods
আজকাল বাজারে ফলমূলের দোকানে গেলে মৌমাছি চোখে পড়ে না, মাছের বাজারে নেই মাছের গন্ধ আর মাছির আনাগোনা। এর কারণ কী? উত্তর একটাই—তা হলো, মাছে ফরমালিন মেশানোর ফলে বাজারে মাছের আঁষটে-পচা দুর্গন্ধ আর থাকে না। একইভাবে কোনো ফলমূলের দোকানেও মৌমাছির আনাগোনা নেই বললেই চলে। কারণ, কারবাইড মেশানোর কারণে মৌমাছি আর মধু আহরণ করতে ওই ফলে যায় না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এগুলো বেশিদিন তাজা রাখার উদ্দেশ্যে ফরমালিন, কারবাইড ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন। অপ্রিয় হলেও সত্য যে আমাদের দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় দুধ, ফল, মাছ-মাংস এমনকি শাক-সবজিতেও ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকে। এসব কেমিক্যাল একধরনের বিষ, যা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হবে না; কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।
এমনও শোনা যায় যে অনেক ব্যবসায়ী ফরমালিন পানিতে মিশিয়ে বরফ তৈরি করেন, আর সেই বরফে মাছ-মাংস সংরক্ষণ করেন। বাজারে আম, জাম, কলা, লিচু, পেঁপে—সব কিছুতেই কারবাইড মেশানো হয় এবং অনেক সময় ভেজালবিরোধী অভিযানে এসব ধ্বংসও করা হয়।
ফরমালিন সাধারণত মানুষের লাশসহ মৃত প্রাণীকে তাজা রাখতে ব্যবহার করা হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন—সবকিছুুকে ধ্বংস করে দেয়। লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়। হার্টকে দুর্বল করে দেয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যানসার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যানসারও হতে পারে। এতে মৃত্যু অনিবার্য। মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। ফরমালিন কেবল ভোক্তাদের জন্য নয়, ফরমালিনযুক্ত মাছ বিক্রেতাদের জন্যও ক্ষতিকর।
ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোরেরা। শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে। বয়স্ক লোকেরাও এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে।
এ ধরনের খাদ্য খেয়ে অনেকে আগের তুলনায় এখন কিডনি, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যায় ভুগছেন। দেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
একবার চিকিৎসা শেষে আবারও তাঁরা একই রোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন। আগে হাসপাতাল-ক্লিনিকে এত রোগী দেখা যেত না। ফল-দুধ-মাছ-মাংসে বিভিন্ন কেমিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব এ অবস্থার অন্যতম কারণ।
এই বিষক্রিয়ার ফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর হবে ভয়াবহ। আজকের শিশুরাই তো আগামীর ভবিষ্যৎ। ভেজাল খাবার কিংবা বিষাক্ত কেমিক্যাল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটা সাদা চোখে দেখা না গেলেও ধীরে ধীরে এর খারাপ ফলাফল আমরা পাব। মানুষকে ঘন ঘন হাসপাতালে যেতে হবে। এতে দিন দিন মানুষের চিকিৎসা-ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। শিশুরা কম বুদ্ধিসম্পন্ন হবে, স্মৃতিশক্তি থাকবে না, শরীরে শক্তি থাকবে না, ভারী কোনো কাজ করতে গেলে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। এরাই তো একসময় দেশের নেতৃত্বে আসবে। বিভিন্ন পেশায় কম মেধাসম্পন্ন লোক ভরে যাবে। এদের মধ্যেই কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হবে, কেউ সচিব হবে, কেউ রাজনীতিবিদ হবে। মোটকথা, একসময় পুরো জাতি মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। দেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এ থেকে প্রতিকার পেতে হলে সাধারণ মানুষকে বেশি সচেতন হতে হবে। বাজারে ফল-মূল দেখে-শুনে কিনতে হবে। জনগণকে ফরমালিনসহ বিভিন্ন কেমিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানাতে হবে।
সরকারকে আইনের মাধ্যমে এ সমস্যা নিরসন করতে হবে। ভেজাল ও বিষাক্ত খাবার থেকে নিরাপদ থাকতে ভেজালবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। দেখা যায়, আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় ভেজাল রোধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এমনকি আইনে মাছ, মাংস, ফলমূল ও সবজির ভেজাল পরীক্ষারও কোনো বিধান নেই। যারা খাবারে ভেজাল মেশায়, পরোক্ষভাবে তারা পুরো জাতিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ জন্য তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত। সরকার কঠোর হলেই খাবারে ভেজাল দূর করা সম্ভব। খাদ্যে ভেজাল পরীক্ষার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল নিতে হবে। প্রতিটি খাবার ভেজাল পরীক্ষা করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। ভেজালকারীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ফরমালিনসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল বিক্রি বন্ধ করতে হবে। মাঝে ভেজালবিরোধী অভিযানের সময় খাবারে ভেজাল দেওয়া কিছুটা কমে গিয়েছিল। মানুষও সচেতন হয়েছিল। কিন্তু এখন আবারও খাবারে ভেজালের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
জনগণের সম্পৃক্ততা, সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগের দৃঢ়তার মাধ্যমেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
এ বি এম আবদুল্লাহ
ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক
মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

ক্যানসারের ঝুঁকি ও জীবনযাপন


জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমানো যায়, জেনেছেন বিজ্ঞানীরা। বংশগতি ক্যানসারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিলেও সত্যিকারের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে ক্যানসার হওয়া ঠেকানো যায় অনেকাংশেই।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পূর্ণবয়স্কদের মধ্যে ক্যানসারের এক-তৃতীয়াংশ জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে।
ধূমপান করে থাকলে ছাড়ুন, সিগারেটের, বিড়ির ধোঁয়া থেকে দূরে যান, তামাক-জর্দা চিবাবেন না আমেরিকার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমেরিকায় ফুসফুসের ক্যানসারে যত লোক মারা যায় স্ত্রী ও পুরুষ, তা অন্যান্য ক্যানসারে হত লোকের চেয়ে বেশি, সব ক্যানসারে মৃত্যুর ২৮ শতাংশ, প্রতিবছর ১৬০,০০০ জন লোক। তা কেবল ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপান আরও এক ডজন ক্যানসারের সঙ্গে জড়িত, সবগুলো ক্যানসারে মৃত্যুর ৩০ শতাংশ।
ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো ধূমপান বন্ধ করা বা একেবারেই শুরু না করা একেবারে বন্ধ করতে না পারলেও কমাতে পারলে লাভ আছে। তবে একেবারে বন্ধ করাই ঠিক। তামাক-জর্দা-গুল চিবানোও ক্ষতিকর। এটিও ক্যানসারজনক, মুখগহ্বরের ক্যানসারের বড় ঝুঁকি। ওজন বেশি হলে কমান। শরীরের মধ্যে ওজন বেশি হলে অনেকেই জানেন হূদ্যন্ত্রের ক্ষতি হয়।
প্লেটে বেশি থাকুক উদ্ভিজ্জখাদ্য
নানা ধরনের খাদ্য আছে যা নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার ঠেকায়। যেমন টমেটো, তরমুজ ও অন্যান্য খাদ্যে আছে ‘লাইকোপেন’ যা প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। প্রমাণ আছে। খাবার প্লেটে তাই থাকুক উদ্ভিজ্জ খাদ্য, শ্বেতসারহীন শাকসবজি ও ফল বেশি করে।
তাই AICR-এর পরামর্শ হলো, খাবেন বেশি উদ্ভিজ্জখাদ্য প্রতিদিন—অন্তত ১৪ আউন্স। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ডায়েট, সেন্ট ট্রপেজ ডায়েট, ুিগ্রন ডায়েট—সবই ফল ও সবজির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ক্যানসার প্রতিরোধক খাদ্য উদ্ভিদখাদ্যবহুল বটে। AICR-এর নতুন প্লেট প্ল্যান হলো: খাবার প্লেটের দুই তৃতীয়াংশজুড়ে থাকবে ফল, সবজি, বিনস ও গোটা শস্য। অন্য এক-তৃতীয়াংশে কচি গোশত, মাছ ও কম চর্বি দুধজাত দ্রব্য।
মদ্যপান করে থাকলে বর্জন করুন
স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে বললে মদ্য হলো দুই ফলা তলোয়ারের মতো। ক্যানসারের জন্য মদ্যপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। যত পান করবেন, ঝুঁকি তত বেশি। মুখ, গলা ও খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি। আর সেই সঙ্গে ধূমপান ও কবলে ঝুঁকি হয় ভয়ানক।
অনেকে তাই বলেন, দিনে একবার মাত্র। তবে আমরা বলি, মদ্যপান বর্জনই শ্রেয়।
ঝেড়ে ফেলুন চাপ শরীর ও মন থেকে
চাপ হয়তো সরাসরি ক্যানসার ঘটায় না, তবে এর পরোক্ষ প্রভাব আছে। চাপ বেশি হলে মানুষ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়ে চাপকে সামাল দেওয়ার জন্য।
অতিভোজন হয়, মদে বুঁদ হয় মানুষ, নিজে নিজে নানা ওষুধ খায়, বাড়ে ক্যানসারের ঝুঁকি। তাই চাপ মোকাবিলায় ব্যায়াম, ধ্যানচর্চা, প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম, কত উপায় আছে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমে, শরীরও থাকে ভালো।
করুন স্ক্রিনিং টেস্ট
বিভিন্ন ক্যানসারের স্ক্রিনিং টেস্ট যেমন ম্যামোগ্রাম, পিএসএ স্ক্রিনিং ক্যানসার রোধ করে না, তবে আগাম শনাক্ত হতে সহায়তা করে, চিকিৎসাযোগ্য পর্যায়ে।
অন্যান্য টেস্ট যেমন প্যাপ স্মিয়ার ও করোনোস্কোপি ক্যানসারপূর্ব পরিবর্তন চিহ্নিত করে, তা এখন চিকিৎসা না হলে জরায়ু ক্যানসার ও কলোন ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। কি কি স্ক্রিপিং টেস্ট কখন করা দরকার সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জেনে নিন শিকড়ের কথা
নিজের পরিবারের ইতিহাসের কথা, রোগ, বৃত্তান্ত, সমস্যার কথা জানা উচিত। তা জানলে নিজের ক্যানসারের ঝুঁকি নিরূপণেও প্রতিরোধে কৌশল টানা সম্ভব।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস,
বারডেম হাসপাতাল,
সাম্মানিক অধ্যাপক,
ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

শরীর চর্চার উপকারিতা

physical-exercise
আমরা বলি ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা উপকারী। কিন্তু কতটুকু উপকারী বা কেন উপকারী, তা অনেকেই জানি না, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে নানা রকম দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়, ওজন কমানো যায়, ভালো ঘুম হয় আর মানসিক প্রশান্তি আসে।
ব্যায়াম মনকে চাঙা করে: শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্ক থেকে নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব রাসায়নিক উপাদান চিত্ত প্রফুল্ল করে এবং শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি চেহারায় লাবণ্য ও ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। নিয়মিত শরীরচর্চাকারীকে বিষণ্নতা কিংবা হতাশা সহজে গ্রাস করতে পারে না।
নিয়মিত ব্যায়াম ক্রনিক রোগ প্রতিরোধ করে: আধুনিক জীবনে শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণ কমে গিয়েছে—হাঁটাহাঁটির প্রয়োজন হয় না বললেই চলে, আর আমাদের খাদ্যাভ্যাসও বদলে গিয়েছে। ফলে দিনে দিনে ক্রনিক রোগব্যাধি যেমন—হূদেরাগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, অস্থিক্ষয়, ক্যানসার ইত্যাদি প্রকোপ বহুগুণে বেড়েছে। নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা এগুলো প্রতিরোধ করে।
নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের ওজন কমে: যাদের ওজন বাড়তি, তাদের ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক পরিশ্রম করলে ক্যালরি খরচ হয়। এভাবে আমরা যতই শারীরিক পরিশ্রম করবো ততোই আমাদের ক্যালরি খরচ বাড়বে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
নিয়মিত ব্যায়াম কর্মস্পৃহা বাড়ায়: ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার ফলে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অতিরিক্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়। এর ফলে আমাদের হূদ্যন্ত্র এবং রক্তনালি সচল থাকে। এর ফলে সমস্ত শরীরে একটি সুস্থ প্রাণস্পন্দন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এটা আমাদের কর্মস্পৃহা বাড়ায়।
নিয়মিত ব্যায়াম সুনিদ্রা আনে: যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী। ব্যায়াম অনিদ্রা দূর করে, অতি নিদ্রা হ্রাস করে। অবশ্য একেবারে ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করা উচিত নয়। কারণ, ব্যায়ামের পরে মানসিক চাঙা ভাবের কারণে ঘুম আসা বিলম্বিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যুষে ব্যায়াম করা উপকারী।
নিয়মিত ব্যায়াম যৌনজীবনের জন্য উপকারী: যাদের যৌনজীবনে জড়তা কিংবা অনাগ্রহ এসেছে, ব্যায়াম তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে যৌনস্পৃহা বাড়ে, যৌন মিলনের স্থায়ীত্বকাল বৃদ্ধি পায় এবং দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
এ আর এম সাইফুদ্দীন একরাম
বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ,
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

তেলাপোকা থেকে সাবধান!

telapoka
আমার নাতনি তেলাপোকা দেখে ভীষণ ভয় পায়। ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে। ভয় পায়, যদি শরীরে বসে? বিচ্ছিরি! যদি কামড় দেয়? আমিও তেলাপোকাকে ভয় পাই। তবে শরীরে বসা বা কামড়ের ভয় নয়, ভয় অন্য কারণে। তেলাপোকা যে অনেক রোগের বাহক! নানা রকমের পেটের পীড়া, আমাশয়, ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া, টাইফয়েড, লিভারের প্রদাহ-জন্ডিস, পোলিও—কত রোগের জীবাণুরই না বাহক তেলাপোকা!
তেলাপোকা মূলত সর্বভুক। তবে খাবারের ময়লা-আবর্জনা আর বাথরুমের ময়লাই এদের প্রিয় খাবার। এসব ময়লা-আবর্জনা থেকে এদের গায়ে লেগে যায় নানা জীবাণু। পেটের ভেতরেও ঢুকে যায় অজস্র। তারপর রাতের আঁধারে যখন বসে কোনো খাবারের ওপর, তখন তেলাপোকার পা-পাখা-শরীর থেকে খাবারে লেগে যায় অসংখ্য জীবাণু। তা ছাড়া, খাবারের ওপর ঘোরাফেরা করার সময় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি খাবারের ওপর মলত্যাগ আর বমিও করে তেলাপোকা। তেলাপোকার এসব মল আর বমির মাধ্যমেও খাবারে মিশে যায় হাজারো জীবাণু। জীবাণুমিশ্রিত এসব দূষিত খাবার খেলেই হয় নানা অসুখ। এ ছাড়া তেলাপোকার শরীর থেকে খসে যাওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ আর ঘরের ধুলোবালিতে মিশে থাকা তেলাপোকার শুকনো মল হতে পারে হাঁপানির কারণ। আমাদের বাড়িঘরের রান্নাঘরে লুকোনো স্থানেই এদের বসবাস বেশি। দিনের বেলায় লুকিয়ে থাকে রান্নাঘরের বেসিনের নিচে, ময়লার বালতিতে, খাবার রাখার আলমারিতে (মিটসেফ) রাখা জিনিসের ফাঁকে ফাঁকে, আলমারির পেছনে, ফ্রিজের পেছনে। এ ছাড়া থাকে বাথরুমের প্যানের গভীরে, বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া মলের বা ময়লার পানির পাইপে। থাকে বইয়ের আলমারিতে বইয়ের ফাঁকে। খাটের বাক্সে। যেকোনো অন্ধকার লুকোনো স্থানে। এসব জায়গা থেকে রাতের আঁধারে বের হয়ে আসে। রাতে রান্নাঘরের মেঝে বা খাবার টেবিলে খাবারের উচ্ছিষ্ট থাকলে, বেসিনে এঁটো থালাবাসন রেখে দিলে তাতে রোগজীবাণু বংশবৃদ্ধি করে। আর এসব খাবার খেতে থাকে তেলাপোকা। বাহক হয় নানা জীবাণুর।
রাতে খাবার টেবিলে খাবারের উচ্ছিষ্ট যেন না থাকে। পরদিন সকালে ধোয়ার আশায় রাতভর বেসিনে যেন না থাকে এঁটো থালাবাসন। পরিষ্কার রাখতে হবে তেলাপোকা লুকিয়ে থাকতে পারে এমন সব জায়গা। রান্নাঘরের মেঝে ও বেসিন রাখতে হবে ঝকঝকে তকতকে। ঢেকে রাখতে হবে রান্নাঘরের ময়লার বালতি। পরিষ্কার করতে হবে প্রতিদিন। রান্নাঘরের দা, বঁটি, কাটিং বোর্ড ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার রাখতে হবে। মিটসেফ পরিষ্কার করতে হবে প্রতি সপ্তাহেই। টেবিলের ড্রয়ার, খাটের বাক্স, বুকসেলফ—প্রতি সপ্তাহেই নজরদারি করতে হবে। খাবার-দাবার রাখতে হবে ফ্রিজে। বাইরে রাখলে অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। বাথরুম রাখতে হবে পরিষ্কার। বেশি উপদ্রব হলে তেলাপোকা মারার চক বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করতে হবে মাঝে মধ্যে।
মো. শহীদুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ,
কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

ঠোঁটের চামড়া উঠা


সমস্যা: আমার বয়স ২০ বছর, ওজন ১৩০ পাউন্ড, লম্বা পাঁচ ফুট সাড়ে আট ইঞ্চি। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। সমস্যা হলো, তিন-চার বছর ধরে আমার ওপরের ঠোঁটের মাঝখানের অংশে চামড়া উঠে যায়। চামড়া ওঠার কারণে জায়গাটুকু গর্তে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে আমি খুব বিভ্রান্ত এবং বিব্রত অবস্থার মধ্যে আছি। দিনে দুইবার ভ্যাসলিন ব্যবহার করি। তবুও চামড়া ওঠে। সমস্যার সমাধান দিয়ে আমাকে নিশ্চিন্ত করবেন।
মো. তানজিন আহমেদ, বগুড়া।
সমাধান: ঠোঁট শুষ্ক থাকার জন্য এবং হাত দিয়ে খোঁটানোর জন্য এ ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আপনি চেষ্টা করবেন ঠোঁটে হাত না দিতে এবং জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট বারবার ভেজাবেন না। এতে আপনি ঠোঁট কিন্তু শুষ্ক হয়ে যায়। স্বাভাবিক ময়েশ্চারিং ক্রিম তিন-চার বার লাগালে শুষ্কতা ফিরে আসবে। আপনি ট্যাবলেট ফেনাডিন ১২০ মিলিগ্রাম দৈনিক তিনবার করে ১৫ দিন খাবেন। এ ছাড়া ব্যাকট্রোবেন অয়েনমেন্ট দিনে দুই বার ক্ষত স্থানে ১০ দিন লাগান। আপনার সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।
সৈয়দ আফজালুল করিম
চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক,
হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

জিহ্বা দেখে রোগ চেনা


জিহ্বা দেখেসর্বক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব না হলেও রোগ সম্পর্কে একটি ধারণা অবশ্যই লাভকরা সম্ভব।তবে সে ক্ষেত্রে জিহ্বা দেখার কিছু নিয়মনীতি মেনে চলা প্রয়োজন। জিহ্বার অগ্রভাগ যদি লাল হয় তবে তা মানবদেহের হূদ্যন্ত্রে তাপ সৃষ্টির নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কারণ, হূদ্যন্ত্রের অবস্থার সঙ্গে জিহ্বার অগ্রভাগের সম্পর্করয়েছে।জিহ্বার অগ্রভাগের ঠিক পেছনের অংশের সঙ্গে ফুসফুসের যোগসূত্র রয়েছে। জিহ্বার পাশের অংশ দেখে লিভার বা যকৃতের অবস্থা সম্পর্কেধারণা করা যায়।জিহ্বার মধ্যবর্তী অংশপাকস্থলী, প্লীহা বা হজমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।জিহ্বার পেছনের অংশকিডনির অবস্থা সম্পর্কে একটি নির্দেশনা প্রদান করে। এ ছাড়া অসুখ-বিসুখ যেমন—ঠান্ডা এবংহজমজনিত সমস্যা সম্পর্কেও নির্দেশনা প্রদান করে। জিহ্বার অগ্রভাগ যদি চোখা হয়তবে তা একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত দৃঢ়অবস্থানের কথা জানান দিয়ে থাকে।শুধু তাই নয়, জিহ্বার অগ্রভাগ যদি চোখা হয় তাহলে ধারণা করা যায় যে ওই ব্যক্তি মানসিকভাবে আগ্রাসী অথবা আক্রমণাত্মক হতে পারে। জিহ্বার অগ্রভাগ বিভক্ত থাকলে বুঝতে হবে ওই ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক ভারসাম্য কম থাকলেও থাকতে পারে। এ ছাড়া চিন্তা ও চেতনা খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। জিহ্বার অগ্রভাগ যদি গোলাকৃতির হয় তা মানসিক এবংশারীরিক দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান দেয়। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে কেউ যেন কারও জিহ্বা দেখার চেষ্টা না করেন। কারণ, এসব ক্ষেত্রে জিহ্বা দেখতে হলে বিশেষ কিছু পদ্ধতি এবংকৌশল অবলম্বন করতে হয় যা এই বিষয়েঅভিজ্ঞ একজন ডাক্তারের পক্ষেই সম্ভব।
মো. ফারুক হোসেন
মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

Wednesday, July 13, 2011

ওজন কমানোর উপায়


তায়েবা সুলতানা
স্থূলতা ওজনাধিক্য শব্দটির সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। কারণ এটি এখন বহুল আলোচিত একটি বিষয়। নাগরিক জীবনে কারও কারও ক্ষেত্রে স্থূলতা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওজনাধিক্যের জন্য বিভিন্ন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সমস্যা দেখা দেয়। তাই আমরা সকলেই ওজনাধিক্য নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। কিন' দেখা যায় বিভিন্ন কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। আসলে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছা এবং চেষ্টা। আসুন আমরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ কয়েকটি টিপস জেনে নিই।
  • প্রতিবেলা খাবার আগে অবশ্যই এক গ্লাস পানি পান করুন।
  • খাবার সময় মজার বা প্রিয় খাবার দেখে উদরপূর্তি করে না খেয়ে আধপেট খান/পেট খালি রেখে খান।
  • খাবারের সময় অবশ্যই চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে খান। বিশেষ করে মাছ ও মাংসের চর্বি, ঘি, মাখন, পনির ইত্যাদি।
  • ক্ষুধা না পেলে কখনোই খাবেন না।
  • বাজি ধরে বা বন্ধুদের সাথে সেলিব্রেট করার সময় খাবার না খেয়ে বরং কোথাও ঘুরে আসুন।
  • ফাস্টফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলো উচ্চ ক্যালরি ও উচ্চ ফ্যাটবহুল খাবার। এসব খাবারের সাথে আপনি নিজের অজান্তেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করে ফেলেছেন।
  • যতটা সম্ভব হাঁটাহাঁটি করুন। যেমন- কাছাকাছি দূরত্বে কোথাও হেঁটে যান, উপরে উঠতে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়িতে চলুন।
  • স্ন্যাকস হিসেবে ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • কারও আশায় না থেকে নিজের ছোট ছোট কাজ নিজেই করুন। যেমন- এক গ্লাস পানির জন্য কাউকে না বলে নিজেই উঠে গিয়ে নিয়ে নিন।
  • অনেকেই বলেন, সময়ের অভাবে এক্সারসাইজ করতে পারেন না তাই যখনই সময় পান ফ্রি হ্যান্ড কিছু এক্সারসাইজ করুন। যেমন- সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানাতে বসেই কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন।
  • সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের ওজন মাপুন। কারণ ওজন যদি স্বাভাবিক থাকে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
আসুন আমরা স্থূলতাকে ভয় না পেয়ে সহজভাবে একে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। কারণ স্থূলতা বা ওজনাধিক্য থেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাইপারটেনশন ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির ইচ্ছার সাথে সাথে বন্ধুত্বের পরিবেশও একান্ত কাম্য।
লেখক : নিউট্রিশনিস্ট এন্ড ওয়েট ম্যানেজমেন্ট
কনসালটেন্ট
ডার্মালেজার সেন্টার
৫৭/ই, পান'পথ, ঢাকা
সাইক্লিং ভালো ব্যায়াম
ডা. মো. শহীদুল্লাহ
সাইকেল অর্থাৎ বাইসাইকেল চালানো হাঁটা এবং সাঁতার কাটার মতো একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। নিয়মিত সাইকেল চালানো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এতে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। রক্তচাপও কমে। সপ্তাহে ৩৫ কিলোমিটারের মতো পথ সাইকেল চালালে করোনারি হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে যায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।
নিয়মিত সাইকেল চালানো শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক। সাইকেল চালালে শরীরের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। ঘণ্টায় মোটামুটি ২০ কিলোমিটার গতিতে সাইকেল চালালে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ ক্যালরি শক্তি খরচ হয়। ২০০৭ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনের এক গবেষণার কথা এটি। এত এনার্জি খরচ হয় বলে নিয়মিত সাইকেল চালালে যারা মোটা তাদের বাড়তি ওজন কমে শরীরের ওজন হয়ে যায় স্বাভাবিক। নিয়মিত সাইকেল চালালে মোটা লোকদের স্বাভাবিক ওজন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ-এ তথ্য পাওয়া গেছে আর্কাইভস অব পেডিয়েট্রিকস অ্যান্ড এডোলিসেন্ট মেডিসিন নামক জার্নালের ২০০৮ সালের এক সংখ্যায়।
আর যাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিক নিয়মিত সাইকেল চালালে তাদের শরীরের ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট কম। ২০০৮ সালে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন নামক এক জার্নালে অস্ট্রেলিয়ার একজনের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফল এরূপই। দেখা গেছে যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে সাইকেল চালিয়ে যান তাদের মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৪০ শতাংশ। পক্ষান্তরে যারা তাদের কর্মস্থলে গাড়িতে চলে যান তাদের মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, প্রায় ৬১ শতাংশ। নিয়মিত সাইকেল চালালে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং শরীরের ওজন কমালে কিংবা শরীরের ওজন সঠিক রাখলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে। নিয়মিত সাইকেল চালালে পাওয়া যাবে এসব উপকার। মুক্ত বাতাসে সাইকেল চালনায় শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। ফলে ফুসফুসে বাড়তি অক্সিজেন সরবরাহ হয়। এতে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। শ্বাসনালির অসুখ প্রতিরোধের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
সাইকেল চালালে রোগ প্রতিরোধী কিছু কোষও তৈরি হয় শরীরে। ফলে সাধারণভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
নিয়মিত সাইকেল চালানো পেশি গঠনে সহায়ক, বিশেষ করে নিম্নাঙ্গের ঊরু কাফ ও পিঠের পেশি। এতে ঊরু, কাফ ও নিতম্ব হয় সুগঠিত। নিয়মিত সাইকেল চালালে জানুসন্ধি এবং পায়ের অন্যান্য সন্ধি সবল হয়। আর্থ্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
সাইকেল চালানোর সময় শরীর ঘামে বেশ। ঘামের সাথে শরীরের বর্জ বের হয়ে যায়। ত্বক ও শরীর থাকে সুস'। সাইকেল চালালে রক্তে নিঃসরণ হয় ভালো লাগার হরমোন এন্ডোরফিন। তাই মুক্ত বাতাসে সাইকেল চালালে মনে প্রশান্তি আসে, মন ভালো লাগে। এন্ডোরফিন স্ট্রেসও কমায়। শিশু সাইকেল চালালে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সাইকেল চালানো তাই শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়ক। সাইকেল চালানোয় এতসব উপকার যেখানে সেখানে নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাস গড়ে তোলা মন্দ নয় মোটেও। সেটা অফিসে যাওয়ার জন্যই হোক, বাজারে যাওয়ার জন্যই হোক, অন্য কোনো প্রয়োজনে হোক কিংবা শুধু ব্যায়ামের জন্যই হোক।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ
ময়মনসিংহ
sunargo.info

গরমে ঘাম ও তার প্রতিকার


আমরা ঘামি কেন?
কিডনি আমাদের শরীরে ছাঁকনির কাজ করে-এ কথা সবারই জানা। শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ কিডনির ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে বাইরে বের করে দেয়া হয়। ভাবছেন, ঘামের সঙ্গে কিডনির সম্পর্ক কী! নিকট একটা সম্পর্ক তো আছেই। কেননা ঘামের সঙ্গে শরীরের অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাইরে বেরিয়ে আসে। তাই বোধহয় প্রাচীন যুগে কিডনি বিকল হলে ডায়ালাইসিস করার ব্যবস্থা না থাকায়, রোগীকে গোটা কতক কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হতো। এর ফলে কিডনি ফেইলিওর রোগীর শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হতো। শরীরের কিছুটা বর্জ্য পদার্থ ঘামের সাহায্যে বেরিয়ে যাওয়ায় রোগী কিছুটা সুস'বোধ করত। তাই এ কথা বলাই বাহুল্য, শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের মধ্যে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে ঘাম অপরিহার্য। সুতরাং ঘাম কম করার জন্য অযথা মাথা ঘামিয়ে সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করে না তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঘাম দুই রকম
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ডাক্তারি মতে ঘাম প্রধানত দুই ধরনের। (১) এক্রিন ঘাম (eccrine) এবং (২) অ্যাপোক্রিন ঘাম (apocrine)।
এক্রিন ঘাম
কায়িক পরিশ্রমে অথবা বাইরের তাপমাত্রার প্রভাবে শরীরের তাপ কিছুটা বেড়ে যায়। তখন আমাদের শরীরের সিস্টেম চায় তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে। ঠিক তখনই এক্রিন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ঘাম নিঃসরণ করে। সাধারণ এই ঘামই ডাক্তারি মতে এক্রিন ঘাম। যা বাষ্প হয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে দুই থেকে চার মিলিয়ন এক্রিন ঘামের গ্রনি' থাকে। গরমের সময় সারা শরীর থেকে বেশ কয়েক লিটার ঘাম বেরিয়ে যায়। ঘর্মগ্রনি' থেকে ঘাম নিঃসরণের সম্পূর্ণ ব্যাপারটা নির্ভর করে নার্ভের কন্ট্রোলের ওপর।
বেশি তাপ এবং অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম ছাড়াও ইমোশনাল কারণে ঘাম নিঃসরণ বাড়ে। তবে এ সময়ে হাত-পায়ের তালু আর বগলই বেশি ঘামে। হার্ট অ্যাটাকের সময়েও ঘামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
অ্যাপোক্রিন ঘাম
অ্যাপোক্রিন ঘামের গ্রন্থি থাকে বগলে এবং যৌনাঙ্গের চারপাশে। এক একজন মানুষের গায়ে একেক রকম গন্ধ সৃষ্টি করে এই অ্যাপোক্রিন ঘাম। তবে অ্যাপোক্রিন ঘামের গ্রন্থিগুলো শৈশবে নিষ্ক্রিয় থাকে। বয়ঃসন্ধির পর থেকে এ ধরনের ঘাম নিঃসরণ শুরু হয়। প্রসঙ্গত, অ্যাপোক্রিন গ্লান্ডের পাশাপাশি এক্রিন ঘামের গ্রন্থিও থাকে। যদিও মানুষে মানুষে আলাদা গন্ধ সৃষ্টির জন্য অ্যাপোক্রিন ঘাম দায়ী, কিন' এই ঘাম যখন প্রথম ত্বকের ওপর বেরোয় তখন তার কোনো দুর্গন্ধ থাকে না। কিন' ত্বকের ওপর থাকা জীবাণুরা যুদ্ধ শুরু করে দেয় ঘামের সঙ্গে। আর এর ফলেই যত গন্ধের উৎপত্তি।
কেন ঘাম বেশি হয়
  • ঘাম বেশি না কম হবে তা কিছুটা নির্ভর করে বংশগতির ওপর।
  • কিছুটা পরিবেশের ওপর।
  • অনেকটাই শারীরিক পরিশ্রমের ওপর এবং
  • মানসিক অবস্থা অর্থাৎ উৎকণ্ঠা, টেনশন আছে, না মানসিক ধৈর্যের অধিকারী তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে ক্রিকেট খেলার কথা ভাবা যায়। যেমন-
  • মাঠে অত্যন্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে প্লেয়ারদের। তাই তারা প্রচণ্ড ঘামছেন।
  • তাদেরই সহ-খেলোয়াড় ব্যাট হাতে প্যাড পায়ে তৈরি। উত্তেজনায় কপালে স্বেদবিন্দু।
  • অন্যদিকে বাড়িতে টেলিভিশনের পর্দায় যারা খেলা দেখছেন তারাও উত্তেজিত। বলাই বাহুল্য এরাও ঘামছেন, তবে পরিমাণে কম।
  • তবে কম-বেশি যাই হোক না কেন, ঘাম সবারই হয়।
আরবে ঘাম হয় না কেন
এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ঘাম হয় ঠিকই, কিন' তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি বলে সঙ্গে সঙ্গে তা শুকিয়ে যায়। ঘাম হয়েছে বোঝার আগেই ঘাম উধাও। এই কাণ্ডই চলে চক্রাকারে। বাংলাদেশের বাতাসের আর্দ্রতা ঘামকে সহজে শুকাতে দেয় না। ঘামে জবজবে হয়ে থাকতে হয়। এটা কিন্তু একপক্ষে ভালো। কেননা বেশি ঘাম হয় বলেই গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কম থাকে। কিন্তু আরবে ঘাম কম হওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে যে কোনো সময়। আর তার অবশ্যম্ভাবী ফল হিট স্ট্রোক।
শরীরে বিকট গন্ধ
জুতো মোজা খোলা মানেই বাড়ি ভরে যাবে দুর্গন্ধে। গায়ের দুর্গন্ধে পাশে বসা বা দাঁড়ানো দায়। সাবান, ডিওডোরেন্ট, পাউডার কোনো কিছুতেই কাজ হয় না। এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান পেতে হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কিছু অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্রিম ত্বকের ভাঁজে, পায়ের আঙুলের খাঁজে দিনে একবার করে টানা সাতদিন- এভাবে চার মাস লাগাতে হবে। তার সঙ্গে সুতির হাল্কা ঢিলা জামাকাপড় পরতে হবে। তবে মোজাও সুতির হওয়া চাই। মাঝেমধ্যে কাজের অবসরে মোজা খুলে শুকনো নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে পায়ের আঙুলের ভাঁজ মুছে নিতে হবে। বগলও মুছে শুকনো রাখতে হবে।
অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড, অ্যাবসলিউট অ্যালকোহল দ্রবীভূত করে লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়। গরমকালে দিনে দুই- তিনবার গোসল করতে পারলে ভালো হয়। পায়ে বেশি রকমের দুর্গন্ধ হলে সুতির তোয়ালে মোজা পরবেন। প্রতিদিন মোজা বদলে নেবেন। জুতার ভেতর শুকনো রাখতে জুতা রোদে দেবেন।
ঘাম না হলে মৃত্যু হতে পারে
প্রচণ্ড গরমে কোনো কারণে ঘাম বন্ধ হয়ে গেলে হিট স্ট্রোক হতে পারে এবং ঠিক সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় এক বিশেষ জন্মগত ত্রুটির জন্য এক্রিন এবং অ্যাপোক্রিন গ্ল্যান্ড অর্থাৎ ঘর্মগ্রনি'র যথাযথ বিকাশ হয় না। বলাই বাহুল্য, এদের ঘাম হয় না। ডাক্তারি পরিভাষায় এ রোগের নাম এক্রোডারমাল ডিসপ্লেশিয়া। এই এক্রোডারমাল ডিসপ্লেশিয়া দুরকম-
(১) অ্যানহাইড্রোটিকঃ এদের একেবারেই ঘাম হয় না, তাই জন্ম মুহূর্ত থেকে রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গেই এদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় রাখা জরুরি। না হলে শরীরের তাপমাত্রা সাংঘাতিক রকমের বেড়ে বা কমে গিয়ে মৃত্যু হতে পারে যে কোনো সময়। আসল কথা হলো এতই সাবধানতা মেনে চলা এক প্রকার অসম্ভব বলে এই অ্যানহাইড্রোটিক শিশুদের বাঁচিয়ে রাখা মুশকিল বিশেষত উষ্ণ আবহাওয়ায়।
(২) হাইড্রোটিকঃ এ ধরনের এক্রোডারমাল ডিসপ্লেশিয়ার রোগীদের ঘাম হয় তবে তা অত্যন- অল্প। তাই এদেরও শরীরের তাপমাত্রার হেরফের হতে পারে যখন-তখন। অবশ্য কিছুটা সাবধানতা মেনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে খুব একটা অসুবিধা হয় না।
চর্মরোগে ঘাম বন্ধ হতে পারে
ত্বকের কিছু অসুখ যেমন- সোরিয়াসিস, একজিমা, ড্রাগ র‌্যাশ জাতীয় Exfoliate dermatitis যদি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে তখন ঘাম বেরুনোর পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রোগীর শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে সাংঘাতিক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। সে জন্য এ ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসা করা উচিত।
ঘাম ও ঘামাচি
ঘামের সঙ্গে ঘামাচির একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। যাদের বেশি ঘাম হয় এবং যারা যথাযথ পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করেন না এবং উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকতে হয় তাদের একসঙ্গে বেশি ঘাম বেরোতে গিয়ে ঘামাচি হয়। ত্বকের ওপরে থাকা জীবাণু, ধুলো-ময়লা এবং অতিরিক্ত পাউডার বা অন্য প্রসাধনের প্রলেপে ঘাম বেরুনোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘামাচি দেখা দেয়।
ঘামাচির প্রকারভেদ
  • ছোট সাদাটে শিশির বিন্দুর মতো ঘামাচির ডাক্তারি নাম মিলোরিয়া ক্রিস্টালিনা। সাধারণত প্রচণ্ড জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ঘাম নিঃসরণের পথ বন্ধ হয়ে যায়। আর তার ফলেই এ ধরনের ঘামাচি বেরোয়।
  • সাধারণ ঘামাচি মিলেরিয়া রুবরা হওয়ার মূল কারণ একই- ঘাম বেরুনোর পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া, গরমের সময় অতিরিক্ত রোদ, বদ্ধ গরম পরিবেশে বা ভ্যাপসা ঘরে থাকলে, সিন্থেটিক বা মোটা টাইট পোশাক পরলে, অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে এই ঘামাচির প্রবণতা বাড়ে।
  • অনেকের বাড়াবাড়ি রকমের খুব বড় বড় প্রায় ফোড়ার মতো আকারের লালচে ঘামাচি দেখা যায় যা বেশ কষ্টদায়ক। এই ধরনের ঘামাচির ডাক্তারি নাম মিলেরিয়া প্রোফান্ডা।
কী করবেন
  • ঘামাচি নাশক ট্যালকম পাউডার পুরু করে লাগালে ঘামাচি কমার বদলে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা বাড়তি পাউডার ঘুম নিঃসরণের পথ বন্ধ করে দেয় ফলে ঘাম আর জীবাণু মিলেমিশে ঘামাচি কমানোর বদলে বাড়িয়ে তোলে।
  • ঘাম বেশি হলে তা যেন ত্বকের ওপর জমে না থাকে। নরম রুমাল বা তোয়ালে দিয়ে মুছতে হবে বারবার।
  • দিনে দুই-তিনবার গোসল করা দরকার।
  • শরীরে বিভিন্ন ভাঁজে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল লোশন লাগালে ঘামাচির হাত থেকে রেহাই মেলে।
  • অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডারে ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • স্নানের পর হালকা করে ট্যালকম পাউডার লাগান।
  • ঠাণ্ডা ঘরে থাকার চেষ্টা করুন, ঘামাচি সেরে যাবে।
  • ঘামাচি খুঁটবেন না, সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • বাড়াবাড়ি রকমের ঘামাচি হলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করতে হবে।
ঘাম এবং অ্যালার্জি
ঘামের জন্য কিছু কিছু অ্যালার্জি এবং কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের প্রবণতা বেড়ে যায়। শীতকালে কোনো ইমিটেশন জুয়েলারি পরা যায় অনায়াসে। কিন' গরমে এ ধরনের মেটিরিয়াল ঘামের সঙ্গে ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে অনেকের ক্ষেত্রে। কিছুদিন এসব জুয়েলারি পরা বন্ধ রাখতে হয়। তা না হলে ত্বকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
কুষ্ঠ ও ঘাম
ঘাম হওয়ার ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করে এক বিশেষ ধরনের নার্ভ। কুষ্ঠরোগে নার্ভ রুট আক্রান্ত হয় বলে কুষ্ঠ আক্রান্ত স্থানে ঘাম হয় না। কিন' শরীরের অন্যান্য অংশে ঘামের পরিমাণ খুব বেড়ে যায়। তাই শরীরের কিছু অংশ ঘামমুক্ত এবং অন্য অংশে প্রচুর ঘাম এ রকম ক্ষেত্রে সোয়েট টেস্ট করে রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস, ঘাম এবং দুর্গন্ধ
অ্যাপোক্রিন ঘাম মানুষের শরীরে গন্ধ সৃষ্টি করে। বাহুমূল ও যৌনাঙ্গে এই অ্যাপোক্রিন ঘামের উৎপত্তি। বংশগত কারণে এবং কখনো যথাযথ পরিচ্ছন্নতার অভাবে কারও কারও শরীরে অত্যন্ত বাজে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এটি দূর করতে একাধিকবার গোসল ও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল লোশন ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া সুগন্ধি, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম লাগানো যেতে পারে। ট্রাইক্লোসামযুক্ত সাবান ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়।
খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে গায়ের গন্ধের একটা সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ঝাল মসলাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত রসুন এবং মাংস খেলে সেই সাথে হজম ক্ষমতা যথাযথ না হলে ঘামে প্রচুর দুর্গন্ধ হয়। প্রতিকার হিসেবে জেন্টামাইসিন, ওসিসোমাইসিন জাতীয় লোশন দিনে দুবার লাগাতে হয়।
অসুবিধা
পরিবেশগত কারণে, কখনো বংশগত কারণে অনেক মানুষেরই অতিরিক্ত ঘাম হয়। ঘাম জমে নানা ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে, আঙুলের ফাঁকে, কুঁচকি ও বাহুমূলে দাদ, ছুলি ইত্যাদি ফাঙ্গাল ইনফেকশনের প্রবণতা বাড়ে। এছাড়া ফোড়া ও কার্বঙ্কলের প্রকোপও বাড়ে। প্রতিকার হিসেবে বারেবারে ঘাম মুছে ফেলতে হবে। তবে বেশি জোরে রগড়ে বা ঘষে মুছবেন না। এতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঢিলেঢালা পাতলা ও হাল্কা সুতির পোশাক পরতে হবে। এছাড়া অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্রিম, যেমন মিউপোরোসিন, সোডিয়াম ফিউসেডেট নাকের ফুটোয়, ত্বকের ভাঁজে লাগাতে হবে।
হাত-পায়ের ঘাম কমাতে বোটক্স ইনজেকশন
অনেকের হাত-পা ঘামার প্রবণতা আছে। কোনো কোনো মানুষের হাত-পা ঘামা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে টাইপ করা, লেখালেখি করা, কম্পিউটার চালানো অথবা চটি জুতা পরে হাঁটা মুশকিল হয়ে ওঠে। এ সমস্যার ডাক্তারি নাম হাইপারহাইড্রোসিস। এর প্রতিকার হিসেবে অ্যাবসলিউট অ্যালকোহল অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড দ্রবীভূত করে বারে বারে লাগানো হয়। এছাড়া আয়ানটোফোরোসিস অর্থাৎ কলের পানির আয়ন ইলেকট্রোলিসিসের সাহায্যে বিশ্লেষিত করা হয়। এই পানিতে হাত-পা ডুবিয়ে রাখা হয়।
বোটুনিয়াম টক্সিন বা বোটক্স ইঞ্জেকশন দিয়েও হাত-পায়ের ঘাম কমানো যায়। তবে তিন-চার মাস পরপর ইঞ্জেকশন নিতে হয়। স্থায়ী মুক্তি সম্ভব নয়। দুটি পদ্ধতিই বেশ খরচসাপেক্ষ।
ঘামের জন্য ওষুধ খাবেন না
মানুষ উষ্ণ রক্তের প্রাণী। চারপাশের পরিবেশের তাপমাত্রা যাই হোক না কেন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা একই থাকে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস শরীরের এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কাজটা করে। ঘাম বেশি মানে শরীরের কোনো সমস্যা হতে পারে। অবশ্য অতিরিক্ত পরিশ্রমেও বেশি ঘাম হয়। কারণ অনুসন্ধান না করে ঘাম কমানোর ওষুধ খেলে টেম্পারেচার প্রোটেকটিভ মেকানিজমটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই কোনো মানুষ যদি হঠাৎ বেশি ঘামতে শুরু করে দেখতে হবে পেছনে কী কারণ আছে, যে কোনো বিপজ্জনক ব্যথা যেমন কিডনির ব্যথা, হার্টের ব্যথা, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস থেকে ফুসফুসের অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট, অ্যাংজাইটি, স্নায়বিক চাপ ইত্যাদি। শুষ্ক গরমের দেশে ঘাম হয়ে সঙ্গে সঙ্গে উবে যায় বলে মনে হয় ও দেশে ঘাম হয় না। তবে আমাদের আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে প্যাচপ্যাচে ঘাম আপাতদৃষ্টিতে কষ্টকর ও বিরক্তিকর হলেও আমরা অনেক বেশি নিরাপদ। কেননা শুকনো গরমে চট করে ডিহাইড্রেশন ও হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বয়স্ক মানুষ হঠাৎ প্রচণ্ড ঘামতে শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে শুইয়ে দেবেন, লবণ লেবু চিনির শরবত খাওয়াবেন। প্রয়োজন হলে ডাক্তার দেখাবেন। শীতের দেশের মানুষ গরমের দেশে এসে হঠাৎ ঘামতে ঘামতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মূলত সোডিয়ামের অভাবে। এ ক্ষেত্রেও লবণ-চিনির শরবত দিতে হবে।
টেনশনে ঘাম বাড়ে
ইদানীং বেশির ভাগ সায়কিয়াট্রিস্ট রোগীর সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে করমর্দন করেন। এর পেছনে উদ্দেশ্য হলো দেখা যে, রোগীর হাত শুকনো না ঘামে ভেজা! কেননা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বেশি ঘামের পেছনে লুকিয়ে থাকে মনের নানা অসুবিধা। ভয় বা প্যানিক ডিসঅর্ডার, রাগ, উত্তেজনা, উদ্বেগজনিত অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, এক্সামিনেশন ফোবিয়া ইত্যাদি অতিরিক্ত ঘামের কারণ। আরও দেখা গেছে, টাইপ ‘এ’ পার্সোনালিটির মানুষ যারা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সব সময় কেরিয়ার বা অন্য লক্ষ্যের পেছনে ছুটে চলেছেন তাদেরও ঘাম বেশি হয় অন্যদের তুলনায়। বিশেষ করে যদি হাইপারহাইড্রোসিস অর্থাৎ হাত-পা ঘামার সঙ্গে সঙ্গে হাত অল্প অল্প কাঁপে তা হলে অ্যাংজাইটির ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বা কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কিছুদিন আগে থেকে কিছু কিছু পরীক্ষার্থীর সাংঘাতিক পরিমাণে হাত-পা ঘামতে শুরু করে। অনেকের এমন ঘাম হয় যে কলমে রুমাল বা তোয়ালে জড়িয়ে লিখতে হয়। কোনো ওষুধ নয়, শুধু দুই একটা সিটিংয়ে কাউন্সিলিং, সাইকোথেরাপি আর রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আসলে অ্যাংজাইটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাসলগুলো টেনসড হয়ে য়ায়। ফলে ঘাম আরও বেড়ে যায়। রিলাক্সেশন করলে শরীরের পেশির সঙ্গে সঙ্গে মনটাও হাল্কা হয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা কিছুটা কমে। ফলে ঘামও কম হয়। অবশ্য শুধু উৎকণ্ঠা-উদ্বেগ নয়, রাগ থেকেও হঠাৎ ঘাম হতে পারে। আর রক্তচাপও বেড়ে যেতে পারে হঠাৎ করে। তাই কাজের চাপের মধ্যে কোনো কারণে খুব রাগ হলে চেঁচামেচি না করে ওই অবস্থাতেই চার-পাঁচবার ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ করে নিন। একদিকে উত্তেজনা ও রাগ কিছুটা প্রশমিত হবে এবং অতিরিক্ত ঘেমে গিয়ে শরীরের এনার্জিও নষ্ট হবে না। ভয় পেলেও ঘামের ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে যায় শরীর বেয়ে। এ প্রসঙ্গে বলি, ঘাম কখনো ঠাণ্ডা হয় না। প্রচণ্ড ভয় পেলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পায় তাই ঘাম ঠাণ্ডা মনে হয়। যে কারণেই ঘাম হোক না কেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, শরবত পান করা জরুরি।
ঘাম কমাতে শল্য চিকিৎসা
ঘাম কমাতে অপারেশন? ভাবছেন খুব বাড়াবাড়ি? আদৌ তা নয়। যারা ভুক্তভোগী তারাই একমাত্র হাড়ে হাড়ে টের পান কুলকুল করে হাতের তালু, পায়ের তলা, বাহুমূল ঘামার কী ভয়ানক জ্বালা। কোনো কাজই করা যায় না শানি-তে, স্বাভাবিকভাবে। তারা যে কোনো মূল্যে অসহ্য ঘাম কমাতে আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে জেনে রাখা ভালো, কমবেশি প্রায় সব দেশের (গরম আবহাওয়ার) এক শতাংশ মানুষ হাইপারহাইড্রোসিসের মতো অতিরিক্ত ঘামের সমস্যায় ভোগেন। এদের প্রায় ২৫ শতাংশেরই বংশগত কারণে এ রোগ হয়। বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত হয়। এদের মধ্যে হাত ঘামার সমস্যায় কষ্ট পান ২৬ শতাংশ, বাহুমূল ৩৭ শতাংশ এবং দুই জায়গাতেই অতিরিক্ত ঘাম হয় ৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রে।
এতজন মানুষের অতিরিক্ত হাত-পা ঘামার সমস্যার সমাধানের কিছু সাময়িক ব্যবস্থা আছে। যেমন- ফরমালিন দিয়ে ঘন ঘন হাত ও পায়ের তালু মুছে শুকনো করে দেয়া হয়। কিন্তু সারা দিনে ২-৩ বারের বেশি এ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। তাই ইদানীং Thoracoscopic Splanchnicectomy অপারেশনই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বুকের পাশে পাঁজরের পেছন দিক থেকে ছোট তিনটে কি হোল করে নার্ভ কেটে দেয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে প্রচণ্ড ঘামের সমস্যায় ভুগতে না হয়।
হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস রোগে ঘাম বেশি হয়
মোটা মানুষ বেশি ঘামে এ কথা সবারই জানা। আসলে ওজনের বোঝা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে BMR অর্থাৎ বেসাল মেটাবলিক রেট বাড়ে। আর এই বেশি BMR-ই বাড়তি ঘাম হওয়ার অন্যতম কারণ। হাই ব্লাডপ্রেসার ও করোনারি আর্টারি ডিজিজের এক অন্যতম উপসর্গ দরদরিয়ে ঘাম। বুকে ব্যথা নেই কিন' একটা চাপ ধরা ভাব, সঙ্গে নিঃশ্বাসের কষ্ট, আর অন্যদের তুলনায় অনেকটাই বেশি গলগল করা ঘাম-হার্টের অসুখের পূর্বাভাস হতে পারে। বুকে ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড বেশি ঘাম হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। এ ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হার্টের চিকিৎসার সুবিধাযুক্ত হাসপাতালে যাওয়া উচিত। হার্টের আর একটি অসুখ লেফট ভেন্ট্রিকিউলার ফেইলিওর হলে ফুসফুসে পানি জমতে পারে। কার্ডিমায়োপ্যাথি নামে এই অসুখে সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠতে গেলে ঘেমে জামাকাপড় ভিজে যায়। এটাও খুব অ্যালার্মিং সিচুয়েশন।
ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিসের রোগীদেরও ঘাম সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। বিশেষত যারা ইনসুলিননির্ভর। কেননা হঠাৎ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে অর্থাৎ হাইপোগ্লাইসিমিয়া হলে গলা শুকিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড ঘাম হয়। ডায়াবেটিসের রোগীদের এ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা জরুরি। এ রকম হলে সঙ্গে সঙ্গে গ্লুকোজ বা চিনি মেশানো পানি, নিদেনপক্ষে একটা লজেন্স খেতে হবে।
এছাড়া ভেসোভেগাল অ্যাটাক হওয়ার আগ মুহূর্তে দরদর করে ঘাম হয়। ভেসোভেগাল হলো এমনই একটা সমস্যা যা হঠাৎ করে হতে পারে যে কোনো মানুষেরই। হঠাৎ চারপাশ ঝাপসা হয়ে ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে মানুষটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। শতকরা বিশ জন মানুষের জীবনে অন-ত একবার ভেসোভেগালের অ্যাটাক হয়। অবশ্য অনেকের সাত-আটবার পর্যন্ত ভেসোভেগালের অ্যাটাক হয়। এদের বলে ম্যালিগন্যান্ট ভেসোভেগাল। কোথাও কিছু নেই হঠাৎ দরদর করে ঘাম ভেসোভেগালের পূর্বাভাস হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়তে হবে। এছাড়া কুশিং সিনড্রোম বা থাইরো টক্সিকোসিস জাতীয় হরমোনের অসুখে BMR বেড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড বেশি ঘাম হয়। কোনো কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড ঘাম আর স্বাভাবিকের থেকে বেশি হার্টরেট থাকলে কোনো শক বা ইন্টারনাল হ্যামারেজের আশঙ্কা করা হয়। সুতরাং হঠাৎ বেশি ঘামতে শুরু করলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কী খাবেন?
বেশি ঘাম হলে অনেকেই বেশি করে পানি পান করেন। কিন্তু শুধু পানি নয়, লবণ, চিনি ও পাতিলেবু মিশিয়ে শরবত করে খেলে ভালো হয়। কেননা ঘামের সঙ্গে কিছু দূষিত পদার্থ ও তার সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে সোডিয়াম ও যৎসামান্য পটাশিয়াম ও বাইকার্বোনেট বেরিয়ে যায়। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ইত্যাদির তারতম্যের জন্য শরীর অত্যন্ত দুর্বল ও অসি'র লাগে। এসব প্রতিরোধ করতে যথাযথ ডায়েটের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ঘাম হলে পানির তেষ্টা পায়, তাই বেশির ভাগ মানুষই প্রচুর পরিমাণে পানি খান। কিন্তু আমরা বলি বেশি করে শরবত খেতে। বেশি ঘাম হলে যা খেতে হবে-
  • সোডিয়ামের ঘাটতি ঠেকাতে সাধারণ লবণই যথেষ্ট, তাই পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। চিনি লবণের অ্যাবজারবেশনের সাহায্য করে। তাই লবণের সঙ্গে অল্প চিনি মিশিয়ে নিতে পারেন। এ সময়ে লবণ, চিনি ও পাতিলেবুর শরবত খেলে ভালো লাগে। শরীরও সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে না। তবে মনে রাখা উচিত ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের রোগীর লবণ-চিনি খাওয়া মানা।
  • গরমে দইয়ের ঘোল ও ডাব খেতে পারেন। প্রথমত ঘোল ভালো লাগে, দ্বিতীয়ত দইয়ে থাকা র‌্যাকটিক এসিড চটজলদি হজম করাতে সাহায্য করে। ডাবে থাকা পটাশিয়ামও শরীর তরতাজা রাখতে পারে।
  • কাঁচা আমপোড়ার শরবতও শরীর ঠাণ্ডা রাখে।
  • বয়স্ক মানুষদের ঘাম বেশি হলে অবিলম্বে লবণ লেবুর শরবত খাওয়ানো দরকার, না হলে হঠাৎ জ্ঞান হারাতে পারেন।
  • গরমে ঘাম বেশি হয় বলে এ সময়ে সাড়ে তিন থেকে চার লিটার পানি, শরবত ও পাতলা চা খেলে ভালো হয়।
  • যাদের সারাক্ষণ রোদে ঘোরাঘুরি করতে হয় তারা সঙ্গে লবণ, লেবু, চিনি সম্ভব হলে ছাতু মিশিয়ে শরবত করে সঙ্গে রাখুন। শরীর দুর্বল লাগলে ও ঘাম বেশি হলে দু-তিন ঢোঁক করে খেতে পারেন। কাজে এনার্জি পাবেন।
  • তবে গরমকাল বলে পিপাসা লাগুক বা না লাগুক দু-তিন লিটার পানি খেতে হবে তা কিন' নয়, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের পানি পিপাসা পায়, সেই অনুযায়ী পানি খেতে হবে।
  • লবণ, লেবু ও ছাতুর শরবত শরীর ঠাণ্ডা রাখে।
  • পানি ঢালা ঠাণ্ডা ভাত (পান্তা ভাত) খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে, ঘুমও ভালো হয়।
  • গরমে ফল বেশি করে খেলে পানির তেষ্টা অনেকটাই কমে। তার সঙ্গে ফলে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর তরতাজা রাখতে সাহায্য করে। জামরুল, তরমুজ, লিচু, শসা, পাকা পেঁপে, পাকা আম যথেষ্ট পরিমাণে খাবেন। পাকা আমের ভিটামিন ‘এ’ ভবিষ্যতের জন্য শরীরে স্টোর করা যায়।
  • কোল্ড ড্রিংসের বদলে টেট্রা প্যাকের জুস ভালো, তবে সবচেয়ে ভালো বাড়িতে তৈরি ফ্রেশ ফ্রুট জুস ও টাটকা ফল।
  • এ সময়ে বেশি তেলমসলা দেয়া মাটন, চিকেন, মাছ না খেয়ে মুরগির স্টু, মাছের পাতলা ঝোল- এই ধরনের খাবার খেলে ভালো হয়।
  • তবে প্রত্যেকের খাবারের রুচি ও সহ্য ক্ষমতা আলাদা আলাদা হওয়ায় গাইডলাইন অনুযায়ী শরীর বুঝে খাওয়াই বাঞ্ছনীয়।
  • মনোজগত প্রতিবেদন

বুকের দুধ বাড়াতে করণীয়


তানভীর আহমদ
বুকে কম দুধ আসা অনেক মায়ের জন্য একটি বড় সমস্যা। কিন' এর সমাধান খুব সহজ। দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য মূলত যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং বিশেষ কিছু খাবার খাওয়া যে খাবারগুলো দুধের পরিমাণ বাড়াতে সরাসরি সহযোগিতা করে।
শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম
বুকে দুধ কম এলে অনেক ক্ষেত্রে মাকে ‘অপয়া’ হিসেবে অপবাদ দেয়া হয়। কিন' বিষয়টি সম্পূর্ণই ভ্রান্ত। এরূপ অপবাদে মা মানসিকভাবে আরও বেশি ভেঙে পড়েন এবং এই মানসিক সমস্যাই মায়ের বুকে দুধ না আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এক্ষেত্রে মা এবং পরিবারের সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, বাচ্চা জন্মগ্রহণের পর দুধ আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং মায়ের পুষ্টি যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে দুধ আসবে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক অশান্তি মায়ের বুকের দুধ তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ জন্য মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সম্ভব হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ মিনিট বিশেষ নিয়মে শবাসন করতে হবে।
শবাসনের নিয়ম 
মা বালিশ ছাড়া চিৎ হয়ে আরামের সঙ্গে শুয়ে পড়বেন (বিছানা বা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে)। হাত দুটি শরীরের দুই পাশে থাকবে। দুই পায়ের মাঝে আধা হাত পরিমাণ ফাঁকা থাকবে। হালকাভাবে চোখ বন্ধ রেখে নাক দিয়ে লম্বা করে দম নিয়ে মুখ দিয়ে দম ছাড়তে হবে (পাঁচ-ছয়বার)। এরপর কিছুক্ষণ (দুই-তিনবার) স্বাভাবিকভাবে দম নিতে হবে। এরপর নাক দিয়ে ধীরে ধীরে দম নিয়ে নাক দিয়েই ধীরে ধীরে দম ছাড়তে হবে। দম নেয়ার চেয়ে ছাড়ার সময় একটু বেশি হবে। এরপর মনের চোখে নিঃশ্বাসের প্রবেশপথে মনোযোগ দিতে হবে। এতে শরীর ভারী ভারী অনুভব হবে। এবার চিন্তা করবেন বিশাল ফাঁকা মাঠে নরম ঘাসের ওপর আপনি শুয়ে আছেন। শীতকাল হলে চিন্তা করবেন হালকা গরম বাতাস আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। গরমকাল হলে চিন্তা করবেন হালকা শীতল বাতাস আপনার শরীরে পরশ বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। এবার চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ চিন্তা করবেন। পাখির কলতান, ঝরনার ছলছল আর পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ ও রঙ, ফুলের মিষ্টি সুবাস প্রভৃতি। এবার আপনার শিশুকে কল্পনায় প্রচুর পরিমাণে আনন্দের সঙ্গে দুধ পান করাতে থাকবেন। তার সঙ্গে খেলবেন, হাসবেন। ঘুমানোর সুযোগ থাকলে ঘুমিয়ে পড়বেন অথবা ধীরে ধীরে মাথা, হাত-পা নাড়বেন এবং উঠে যাবেন।
পানি পান
প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানি পানের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ভাতের সঙ্গে কাঁচা লবণ খেতে হবে (অতিরিক্ত পানি খাওয়ার কারণে যাতে শরীরে লবণের ঘাটতি না হয়)। তবে যাদের হাইপ্রেসার বা উচ্চরক্তচাপ আছে তারা কাঁচা বা পাতে লবণ খাবেন না।
ঘন ঘন দুধ খাওয়ানো
বাচ্চাকে যত ঘন ঘন দুধ দেবেন তত বেশি দুধ আসতে থাকবে। বাচ্চা যদি খুব কম দুধ পান করে সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে দুধ চিপে ফেলে দেবেন। প্রথম ছয় মাস প্রতিদিন ৮-১০ বার বা বাচ্চার চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি বার দুধ পান করাতে হবে। একবারে ১০-২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় ধরে দুধ দেবেন।
খাবার
মাকে যতটুকু সম্ভব বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার (যেমন- মাছ, ডিম, দুধ প্রভৃতি) খেতে হবে। অতিরিক্ত দুধ তৈরিতে যে খাবারগুলো সরাসরি সহযোগিতা করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজর, শিম, বাদাম (চীনাবাদাম, কাজুবাদাম), কালোজিরার ভর্তা, লাউ, ডুমুর, পালংশাক, কলমিশাক, টমেটো প্রভৃতি।
বিশেষ সতর্কতা
দুধদানকারী মা যদি এইডস, যক্ষ্মা বা অন্য কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তবে দুধদানের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমতি নিতে হবে। দুধদানের সময় মায়ের কখনোই কোক, পেপসি, স্প্রাপ্রাইট প্রভৃতি কোমল পানীয় এবং চা, কফি পান করা ঠিক নয়। কারণ এগুলো থেকে ক্ষতিকর কিছু উপাদান মায়ের শরীরে এবং মায়ের শরীর থেকে দুধের সঙ্গে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে বাচ্চা অসুস' হয়ে পড়তে পারে।
লেখক : ডায়েটিশিয়ান
সুনর্গ.ইনফু

৯ মাসের বিপদ-আপদ

জরিনা বেগম, বয়স ২৫, গৃহিণী, স্বামী কৃষক। বাড়ি কুড়িগ্রাম। দুই কন্যা সন্তানের জননী, বর্তমানে আবার গর্ভবতী। স্বামী হুমকি দিয়েছে আবার কন্যা সন্তান প্রসব করলে তালাক দেবে। তাই গর্ভকালীন তার প্রতি গুরুত্ব ছিল একেবারেই কম, এমনকি প্রসব বেদনার সময়ও। গ্রামের ধাত্রীকে ডেকে আনা হলো। অবস্থা খুবই জটিল জেনেও স্বামী হাসপাতালে নিতে রাজি হলো না। ২৪ ঘণ্টা কষ্টের পর জরিনা এক মৃত পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়ে নিজেও মারা গেলেন। পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এলো। শোকটা জরিনার জন্য নয়, মৃত পুত্রসন্তানের জন্য।
রাহেলা খাতুন, বয়স ২২, এক পুত্রসন্তানের জন্মের চার বছর পর পরবর্তী সন্তানের জন্মের তারিখ খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। গভীর রাতে প্রসব বেদনা উঠল। কিন্তু প্রসূ'তি শেষ করে হাসপাতালে তাকে নিতে অনেক দেরি হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে সে জন্ম দিল এক মৃত কন্যা সন্তান।
প্রথম ঘটনায় মৃত্যুর কারণ দৃষ্টিভঙ্গি, দ্বিতীয়টিতে যথাযথ প্রসূ'তির অভাব। মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার আমাদের দেশে আগের তুলনায় অনেক কমেছে কিন্তু এখনো যে পর্যায়ে আছে তা যথেষ্ট উদ্বেগের। গর্ভকালীন মাকে বাড়তি যত্ন নিতে হবে তার পরিবার থেকে, তাকে ও অনাগত শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার থেকে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ রাখা দরকার।
  • মাকে সব সময় মানসিকভাবে উৎফুল্ল রাখা
  • পুষ্টিকর খাবার দেয়া
  • জন্মদান বিষয়ে সাহস জোগানো
  • ভারী কোনো কাজ করতে না দেয়া
  • সব সময় স্বাস্থ্যগত দিকটি নজরে রাখা
  • ভবিষ্যতে যেকোনো বিপদের জন্য নিজেদের প্রস'ত রাখা
তবে নিচের কয়েকটি বিষয় গর্ভবতীর মধ্যে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেগুলো হলো-
হঠাৎ রক্তপাত শুরু হলে
প্রসবের সময় ছাড়া গর্ভাবস্থায় যেকোনো সময় রক্তক্ষরণ বা প্রসবের সময় বা প্রসবের পর খুব বেশি রক্তক্ষরণ বা গর্ভফুল না পড়া বিপদের লক্ষণ। তাই এ রকম পরিসি'তির সৃষ্টি হলে কোনো রকম চিন্তা না করে পরিবারের সবারই উচিত মাকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। অন্যথায় তা বাচ্চা এবং মা দুজনের জীবনেই হুমকি ডেকে আনতে পারে।
খিঁচুনি হলে
গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর যেকোনো সময় যদি খিঁচুনি দেখা দেয় তবে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত হাসপাতালে মাকে ভর্তি করাতে হবে। খিঁচুনি একলামসিয়ার প্রধান লক্ষণ। তাই দ্রুত পদক্ষেপ ও চিকিৎসা বাচ্চা এবং মা দুজনের জীবনকেই রক্ষা করতে পারে। তা না হলে এ রোগে দুজনই মারা যেতে পারে।
চোখে ঝাপসা দেখলে বা তীব্র মাথাব্যথা হলে
গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর শরীরে পানি আসা, খুব বেশি মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা পাঁচটি প্রধান বিপদ চিহ্নের মধ্যে একটি। তাই এ ব্যাপারে মায়েদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও গর্ভাবস্থায় মায়ের পায়ে সামান্য পানি আসা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। একটু বেশি হাঁটলে এ পানি চলেও যায়। কিন' যদি পায়ে অতিরিক্ত পানি আসে এবং অস্বস্তির সৃষ্টি করে ও পা ভারী হয়ে আসে তবে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
ভীষণ জ্বর হলে
গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর তিন দিনের বেশি জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব প্রধান বিপদ চিহ্নের একটি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যদি কেঁপে কেঁপে ভীষণ জ্বর আসে এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হয়, তবে তা অনেক সময় মূত্রনালির সংক্রমণের ইঙ্গিত বহন করে। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা করলে অল্প সময়ে এ জটিলতা দূর হয়ে যায়।
বিলম্বিত প্রসব হলে
প্রসবব্যথা যদি ১২ ঘণ্টার বেশি হয় অথবা প্রসবের সময় যদি বাচ্চার মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ বের হয়ে আসে, বাসাবাড়িতে প্রসবের চেষ্টা না করে সবারই উচিত মাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া।
লক্ষ রাখতে হবে গর্ভবতীকেও
এ ছাড়া গর্ভবতী মায়েদেরও এসব বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে। তা ছাড়া নিচের কয়েকটি বিষয়ে নিজেকেও খেয়াল রাখতে হবে।
বাচ্চার নড়াচড়া
গর্ভাবস্থায় সাধারণত মা ১৬ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করেন। পেটের ভেতর বাচ্চা ঘুমায় ও খেলা করে, যার অনুভূতি মা বাইরে থেকে বুঝতে পারেন। বাচ্চার নড়াচড়ার একটা নির্দিষ্ট সীমা এবং সময় রয়েছে যা শুধু মা-ই অনুভব করেন। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে মা সেটা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন। বাচ্চার অধিক নড়াচড়া বা কম নড়াচড়া দুটিই ক্ষতিকর এবং এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর ডাক্তারকে দেখানো উচিত।
রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর মায়ের রক্তচাপ লক্ষ রাখা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় মায়ের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং এটি একলামসিয়ার একটি লক্ষণও। তাই যারা আগে থেকেই রক্তচাপে আক্রান্ত বা গর্ভাবস্থায় উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিজ ও বাচ্চা উভয়ের সুন্থতা নিশ্চিত করা।
তলপেটে তীব্র ব্যথা
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে (সাধারণত তিন মাসের মধ্যে) যদি কোনো সময় তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, রক্তক্ষরণ ও পেট রক্ত হয়ে যায় তবে দ্রুত ডাক্তারকে দেখানো উচিত। এ ক্ষেত্রে জরায়ু ছাড়া নালিতে (অন্যান্য সন্তান যেমন- পেটের ভেতর, ডিম্বাশয়ের মধ্যে ইত্যাদি) গর্ভধারণ (যা একটোপিক প্রেগন্যান্সি নামে পরিচিত) হয়ে থাকে এবং অনেক সময় এটি ফেটে গিয়ে মায়ের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত অপারেশন ছাড়া মাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩৬ সপ্তাহে ন্যূনতম প্রতি মাসে একবার এবং ৩৬ সপ্তাহের পর প্রতি সপ্তাহে একবার করে মাকে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তার দেখানো উচিত।
গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা
এর বাইরেও গর্ভকালীন সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা যায়। যেমন-
বমি
সকালে ওঠার পর যদি বেশি অসুস্থবোধ হয় তবে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে হালকা কিছু যেমন- শুষ্ক টোস্ট বা সাধারণ বিস্কুট খেতে পারেন।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
  • দুশ্চিন্তা করবেন না
  • বমি হবে এই ভয়ে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করবেন না
বুকজ্বলা
  • অল্প অল্প করে প্রয়োজনে বারবার খাবার খান
  • বেশি মসলাযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করুন
  • রাতে বুকজ্বলা শুরু হলে এন্টাসিড ট্যাবলেট চুষে খেতে পারেন
  • প্রয়োজনে ডাক্তার দেখান
কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা কষা
  • প্রচুর পানি, আঁশযুক্ত খাবার ও শাকসব্জি বেশি করে খান
  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করে মাংসপেশির টান ঠিক রাখুন
গিলা ও পা ফোলা
  • অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না
  • পা যতটা সম্ভব ওপরের দিকে রেখে শুয়ে থাকুন
  • রক্তচাপ পরিমাপ করাবেন
  • লবণ কম খাবেন
যোনির নিঃসরণ
সব মহিলারই গর্ভাবস্থায় যোনির নিঃসরণ বেড়ে যায়। এটা সাধারণত সাদা হয়, তবে গন্ধ থাকে না। যদি যোনির নিঃসরণ গন্ধযুক্ত, রঙিন হয় এবং আপনি অস্বস্তিবোধ করেন তবে বুঝতে হবে আপনার যোনিতে জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। একটু সচেতনতা ও পরিবার এবং চিকিৎসকের সামান্য সহযোগিতাই কমিয়ে আনতে পারে মা ও শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হার।
গর্ভবতী মায়ের জন্য
  • সব সময় ধীরে ধীরে দাঁড়াবেন, কখনোই আচমকা দাঁড়াবেন না
  • এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না
  • প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন
  • বেশি লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
  • প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার যেমন- রান্না করা অথবা কাঁচা ফল এবং সবুজ শাকসব্জি, সালাদ খাবেন
  • অল্প চর্বিযুক্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাবেন
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন
  • ক্লান্তি-বোধ হলে কিছু সময় বিশ্রাম নিন
  • যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তা পরিহার করুন
  • প্রতি রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টা ঘুমাবেন। প্রয়োজনে বিকেলে বিশ্রাম নিন।
  • বাম কাত হয়ে ঘুমাবেন। এর ফলে বাচ্চার জন্য পুষ্টি ও অক্সিজেন বহনকারী রক্তনালির ওপর চাপ পড়বে না।
  • ডা. রাতু রুমানা
    সুনর্গডটইনফু

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Facebook Themes