Total Pageviews

Showing posts with label ব্যায়াম. Show all posts
Showing posts with label ব্যায়াম. Show all posts

Thursday, January 5, 2012

‘ক্লান্তি কমাবে যোগ ব্যায়াম’

স্তন ক্যান্সার থেকে আরোগ্যলাভকারীদের ক্লান্তি কমাতে পারে যোগ ব্যায়াম। স¤প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

স্তন ক্যান্সার থেকে সুস্থ হওয়ার পর এক তৃতীয়াংশ নারীই ক্লান্তিতে ভোগে। আর এ ক্লান্তি তাদের জীবনের গুণগতমানের ওপর প্রভাব ফেলে।

তবে গবেষণায় দেখা যায়, যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্ষয় হওয়া জীবনীশক্তি অনেকাংশেই ফিরে পাওয়া সম্ভব।

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ছোট একটি গবেষণা করা হয়। এতে স্তন ক্যান্সার থেকে আরোগ্য হওয়া ৩১ জন নারীকে তিনমাস ধরে সপ্তাহে দুই দিন যোগ ব্যায়াম করানো হয়।

যোগ ব্যায়ামের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে ক্লান্তি কমে প্রাণশক্তি বাড়ছে। যোগ ব্যায়ামের ক্লাসে যাওয়া ক্যান্সার থেকে সুস্থ হওয়াদের মধ্যে ২৬ শতাংশ ক্লান্তি কমেছে এবং ৫৫ শতাংশ প্রাণশক্তি বেড়েছে।

এদিকে আরেক দলকে শুধু ক্যান্সারপরবর্তী স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্লাস করানো হয়। এর ফলাফলে দেখা যায়, ওই দলের ক্লান্তি বা অবসাদের মাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ক্যান্সার নামের একটি জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Saturday, November 19, 2011

 প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যায়াম, কী আশ্চর্য ফল!

পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট-এ। দেখা গেছে, নিষ্ক্রিয় লোক, ঘরে বসে থাকা যাঁদের অভ্যেস, তাঁরা যদি প্রতিদিন ১৫ মিনিট মাত্র ব্যায়াম করেন, তাহলে মৃত্যুঝুঁকি কমে ১৪% এবং প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়ে যায় তিন বছর। নিষ্ক্রিয় লোক এবং সক্রিয় লোক যাঁরা নানা কাজে, নানা শরীরচর্চায় বা শ্রমের কাজে নিয়োজিত—এই দুই দলের মধ্যে তুলনা করে এমন ফল এসেছে।
অনেক স্বাস্থ্য সংস্থা, যেমন—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শরীরচর্চার হিতকরী ফলকে স্বীকার করেছেন এবং হপ্তায় ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়ামের পরামর্শও দিয়েছেন। তবে এই পরামর্শের চেয়ে কম সময় ব্যায়াম করলে গড় আয়ুর ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা অস্পষ্ট।
তাইওয়ান ও চীন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ন্যাশনাল হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডা. চিপাংওয়েন এবং ন্যাশনাল তাইওয়ান স্পোর্ট ইউনিভার্সিটির ড. জ্যাকসন পুই মানউই ও সহকর্মীরা নানা মানের শরীরচর্চার স্বাস্থ্য হিতকরী ফল যাচাই করে দেখেছেন।
এরই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন চার লাখের বেশি মানুষ, যাঁরা তাইওয়ানে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মেডিকেল স্ক্রিনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এঁদের ফলোআপ করা হলো গড়ে আট বছর। এঁরা প্রতি হপ্তায় যা শরীরচর্চা করেন বলে নিজেরা বললেন, এই তথ্যসূত্র ধরে তাঁদের ব্যায়ামের মানের পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হলো: নিষ্ক্রিয়, কম শরীরচর্চা, মাঝারি শরীরচর্চা, উঁচু মান ও অতি উঁচু মানের শরীরচর্চা। নিষ্ক্রিয় গ্রুপের সঙ্গে প্রতিটি গ্রুপের তুলনা করে বিপর্যয় অনুপাত গণনা করা হলো, প্রতি দলের প্রত্যাশিত গড় আয়ুও গণনা করা হলো।

কম মান শরীরচর্চাতেও বেশ ফল
নিষ্ক্রিয় যাঁরা, একেবারেই ব্যায়াম করেন না, এঁদের সঙ্গে যাঁরা কম শরীরচর্চা করেন তুলনা করলে, অর্থাৎ যাঁরা হপ্তায় মাত্র ৯২ মিনিট ব্যায়াম করেছেন (দিনে মাত্র ১৫ মিনিট) এদের মৃত্যুঝুঁকি কমে ১৪%, ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি কমে ১০%, প্রত্যাশিত গড় আয়ু বাড়ে তিন বছর। প্রতিদিন ন্যূনতম ১৫ মিনিট শরীরচর্চাকালের চেয়ে বাড়তি আরও ১৫ মিনিট বেশি শরীরচর্চা করলে মৃত্যুঝুঁকি আরও ৪% কমে, ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি কমে আরও ১%। সব বয়স ও জেন্ডারে এটি প্রযোজ্য। যাঁদের হূদেরাগের ঝুঁকি, তাঁদের জন্যও।
তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় লোকদের মৃত্যুঝুঁকি কম শরীরচর্চা লোকদের চেয়ে ১৭% বেশি। গবেষকদের মন্তব্য: ‘সামান্য যে পরিমাণ ব্যায়ামের পরামর্শ আমরা দিচ্ছি, তা মেনে চললেও হূদেরাগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারে মৃত্যুহার তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস করা সম্ভব। ‘কম মাত্রা শরীরচর্চা’ ও অসংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে, কেন্দ্রীয় ভূমিকা গ্রহণ করবে, কমে যাবে চিকিৎসাগত ব্যয় ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বৈষম্য।’
মন্ট্রিয়াল হার্ট ইনস্টিটিউটের ও কুইবেক, কানাডার ইউনিভার্সিটি দ্য মন্ট্রিয়ালের ডা. অনিল নিগাম ও মার্টিন জুনাউ বললেন, ‘সপ্তাহের প্রায় প্রতিটি দিন মাত্র ১৫ মিনিট শরীরচর্চা করলে যে মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব, এই তথ্যটি অনেককে তাঁদের ব্যস্ত জীবনে সামান্য সময়ের শরীরচর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করবে।’ সরকার ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দায়িত্ব হলো এই সংবাদ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামান্য হলেও শরীরচর্চা করা, সক্রিয় জীবন যাপন করতে জনগণকে বোঝানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রয়েছে এঁদের। এই গবেষণা থেকে স্পষ্ট, সামান্য পরিমাণ শরীরচর্চাও ভালো, বেশি করলে আরও ভালো।

Saturday, October 8, 2011

পায়ের জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকরী ব্যায়াম

ছবি ১ ছবি ২
প্রিয় পাঠক, সালাম ও শুভেচ্ছা|কেমন আছেন সবাই? যেমনি থাকুন,নিজের দিকে নজর দিন|নিয়মিত ব্যায়াম করুন|নিয়মিত ব্যায়ামই আপনাকে দিবে ভালো থাকার নিশ্চয়তা| আগের পোস্ট গুলোতে কার্ডিও ব্যায়াম, হাঁটার নিয়ম, ওয়েট ট্রেইনিং, অফিসের ব্যায়াম, পেটের ব্যয়াম, স্ট্রেচিং,পুশ আপ, ইত্যাদি ব্যায়ামের কথা বলা হয়েছে|আজকে পায়ের একটি জনপ্রিয় ও অত্যন্ত কার্যকরী ব্যায়াম-স্কোয়াট(Squat) সম্পর্কে লিখছি|
স্কোয়াট কি?
স্কোয়াট পায়ের একটি অন্যতম ভালো ব্যায়াম|শুধু কার্ডিও করলে ওজন কমে, ঠিক থাকে বা বাড়ে সত্য|কিন্তু আপনি যদি পায়ের নির্দিষ্ট মাসেল গুলোকে সুন্দর সেপ দিতে চান, তবে, এই ধরনের(স্কোয়াট এর মতো)ব্যায়াম গুলো করতে হবে| এটি একটি compound exercise, যা একের বেশি মাসেলের জন্য কাজ করে| পায়ের glutes(পায়ের উপরিভাগে পেছনের দিকের মাসেল), quads(থাই এর সামনের মাসেল) , hamstrings( থাইয়ের পেছনের মাসেল)এবং calves(হাঁটুর নিচে পেছনের মাসেল), লো ব্যাক(মেরুদন্ডের নিচের দিকে ) —এই সব মাসেলে এক সাথে কাজ করে, তাই এটি এত ভালো ব্যায়াম |
এটি একটি স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং ব্যায়াম|কারণ এটি করার সময় শরীরের ওজনকে ওপরে ওঠাতে বা নামাতে শরীরের শক্তি ব্যবহার করা হয়|স্কোয়াট করতে হাঁটু ভেঙ্গে সামনের দিকে হাঁটু থেকে হিপ পর্যন্ত আনা হয়|এটি ওয়েট নিয়ে বা ওয়েট ছাড়া করা যায়|
স্কোয়াট ব্যায়ামে পায়ের মাসেলগুলোকে ব্যবহার করার পাশাপাশি কোমর, পেট, ব্যাক, ঘাড়, হাত ইত্যাদির জন্যও কিছু ব্যায়াম হয়|কারণ, এই গুলোকেও স্কোয়াট এর সময় কাজে লাগানো হয়| তাই স্কোয়াটকে বলা হয় পুরা বডির ব্যায়াম|
কি ভাবে স্কোয়াট করবেন?
  • প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়ান|কাঁধ,মাথা সোজা,হাত কাঁধ বরাবর সোজা রাখুন|
  • পা হিপের দুই পাশে রেখে, পা দুটো ফাঁকা করুন| খুব বেশিও না বা খুব কম না, আপনার সুবিধা মতো ফাঁক করুন(ছবি ১ এর মতো)|
  • পায়ের পাতা সোজা সামনের দিকে রাখুন| বা শরীরের বাইরের দিকে (সর্বোচ্চ ৩০ ডিগ্রী)সামান্য বাঁকানো থাকতে পারে (ছবি ১ এর মতো)|
  • এবং মাথা সোজা সামনের দিকে, দৃষ্টি সামনের দিকে থাকবে|
  • পেট ভেতরের দিকে টেনে রাখবেন|
  • হাঁটু পায়ের পাতা বরাবর একদম সোজা থাকবে|
  • জোরে নিঃশ্বাস নিন|
  • ধীরে ধীরে হাঁটু সামনের দিকে হিপ সহ ভাঙ্গতে থাকুন ও মেঝের দিকে নামতে থাকুন| মনে করুন আপনি পা ফাঁক করে চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন(ছবি ২ এর মতো)|
  • এই সময়ে শরীর থাকবে উপরের দিকে একদম সোজা, বিশেষ করে মেরুদন্ড(ব্যাক) একদম সোজা থাকতেই হবে|
  • হাঁটু নামার সময় পায়ের পাতার বাইরে সামনের দিকে যাবে|
  • শরীর নামবে সর্বোচ্চ ৯০ কোন পর্যন্ত| শরীরের ও পায়ের মাঝের কোন হিসাব করুন|অথবা হিপ ও থাই থাকবে মেঝের সাথে সমান্তরাল|
  • শরীরের ব্যালান্স ঠিক রাখতে হাত দুটো সামনে শরীর থেকে বাইরের দিকে কাঁধ বরাবর রাখতে পারেন|(ছবি ২ এর মতো)|
  • এখন আপনার আপার বডি খুব সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে থাকবে(ছবি ২ এর মতো)এবং হিপ পেছনের দিকে নামবে|
  • এই অবস্থায় ১২-১৬ গুনুন|
  • এখন আপনি আপনার হাঁটু থেকে হিপ পর্যন্ত স্ট্রেচ অনুভব করবেন|
  • শ্বাস থাকবে স্বাভাবিক
  • এইবার আবার উপরে উঠুন বা আগের অবস্থায় আসুন|মনে করুন আপনি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছেন|
  • পুরো স্কোয়াট প্রক্রিয়াটি দেখুন ছবি ৩ এ|
    ছবি ৩
  • উঠার সময় জোরে দম ছাড়ুন|
  • উঠার সময়ও থাই এর মাসেলে চাপ অনুভব করবেন, বা থাই ব্যবহার করতে হবে, চেস্ট দিয়ে উঠবেন না|পায়ের পাতা, কাফ মাসেলেও সামান্য চাপ অনুভব হবে|পেট ভেতরের দিকে টানা থাকবে ও ব্যাক সোজা থাকবে|
  • সুবিধার জন্য পেছনে একটি চেয়ার দিয়ে নিতে পারেন,কিন্তু চেয়ারে বসবেন না|
  • হাঁটুতে বেশি চাপ দিবেন না,হাঁটু পায়ের পাতার চাইতে বাইরের দিকে যাবে না বা নিচের দিকে ঝুকবে না|
  • নামার বা উঠার সময় দুই পায়ের উপর সমান ভাবে চাপ পড়বে|
  • নামার বা উঠার সময় দুই হাঁটুই একই ভাবে থাকবে|
  • বেশি দ্রুত করতে যাবেন না, তাহলে মাসেল পুল হতে পারে|
  • স্কোয়াট শেষে hamstrings ও quadriceps মাসেল গুলোর জন্য হালকা ভাবে স্ট্রেচিং করুন |
নিচের ভিডিওটি দেখুন জানুন কিভাবে স্কোয়াট করবেন 

কিভাবে ও সপ্তাহে কতদিন স্কোয়াট করবেন?
  • এই ব্যায়াম করতে পারেন সপ্তাহে ২/৩ দিন|এক দিন পর পর|কারণ ওই মাসেল গুলোকে পরদিন রেস্ট দিলে ব্যায়াম ভালো ভাবে কাজ করে|
  • ১০-১৬ বার করবেন ১-৩ সেট বা ফিটনেস ট্রেইনারের পরামর্শ মতো ও আপনার জন্য যেমন দরকার তেমন করে|
  • সবচেয়ে ভালো ফল পেতে কমপক্ষে ৩ সেট করুন|
সাবধানতা:
  • হাঁটু পায়ের পাতা বরাবর থাকবে,হাঁটু উল্টা পাল্টা ভাবে ঘুরিয়ে করতে গেলে ইনজুরি হতে পারে|
  • স্কোয়াট অবস্থায় হিপ হাঁটুর নিচে যাবে না বা হাঁটু নিচের দিকে ঝুঁকবে না|
  • হাঁটু যেনো পায়ের পাতার পেছনে কখনই না যায়|
  • শরীর(বা মেরুদন্ড) সব সময় একদম সোজা থাকবে|
  • পায়ের পাতা মেঝের থেকে উপরে যাবে না|হিল মেঝেতে থাকবে|
  • প্রতিটি ব্যায়ামই করবেন আপনার ফিটনেস লেভেল,বয়স, শারীরিক সমস্যা(যেমন:হাঁটুর সমস্যা, ব্যাক পেইন, অতিরিক্ত ওজন)ইত্তাদির কথা বিবেচনা করে|
  • প্রথম প্রথম আপনি যতটুকু নামাতে পারেন, ততটুকু নামুন| তার বেশি করতে যাবেন না, ধীরে ধীরে বেশি নিচে নামতে চেষ্টা করুন|
  • যে কোনো নতুন ব্যায়াম শুরুর আগে ফিটনেস ট্রেইনার বা ডাক্তারের পরামর্শ মতো করবেন|
  • নিচে নামার ও উপরে উঠার সময় শরীরের ব্যালান্স যেনো ঠিক থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন|
  • আপনার ব্যায়াম যেনো সঠিক হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন| সঠিক নিয়মে ব্যায়াম না করলে, মাসেল পুল হতে পারে এবং ব্যায়াম কাজ করবে না |
  • স্কোয়াট করার আগে অবশ্যই ভালো মতো শরীর ওয়ার্ম আপ করে নিতে হবে|
  • স্কোয়াট করার সময় ব্যায়াম ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, আপনার পশ্চার ঠিক আছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন|
স্কোয়াট কেন করবেন?
  • পায়ের শক্তি বাড়ায়:পা আমাদের শরীরের সবচাইতে শক্তিশালী অঙ্গ, তাই এই ব্যায়াম করলে পায়ের শক্তি বাড়ে|
  • এই ব্যায়ামে হাঁটু ব্যবহার করায়, হাঁটুর শক্তি বাড়ে ও হাঁটুর ব্যথা কমায়
  • এতে পুরা শরীরের ব্যায়াম হয় ও পুরা শরীরের শক্তি বাড়ে বা ফিটনেস বাড়ে
  • এটি মাসেল সেপ করে, inner ও outer thighs, quads, hamstrings, calves, abs ও buttocks– এই সব মাসেলের শেপ সুন্দর হয়
  • পায়ের মাসেলের শক্তি বাড়ায়
  • পায়ের মাসেল বিল্ড করে:স্কোয়াট মাসেল বিল্ডিং বা বডি বিল্ডিংয়ের জন্যে ও পাওয়ার লিফটিং এর জন্যে করা যায়|বডি বিল্ডিঙে মাসেল তৈরিতে এটি খুব দ্রুত কাজ করে|
  • শরীরের ব্যালান্স বাড়ে
  • হাঁড়ের শক্তিও বাড়ে|
  • হাঁড়ের ঘনত্ব বাড়ে ও হাঁড়ের ঘনত্ব সঠিক ভাবে ধরে রাখে
  • ফ্যাট বার্ন করে
  • ফ্রি হ্যান্ড স্কোয়াটে কোনো যন্ত্রপাতি লাগে না, তাই মেশিন ছাড়াও স্কোয়াট করার সুবিধা পাওয়া যায়|
  • Posture ঠিক করে
  • শরীরের flexibility বাড়ায়
  • ব্যাক পেইন কমায়|
  • পায়ের মাসেলের শক্তি, ব্যালান্স ও  flexibility বাড়ে| সর্বপরি পায়ের শক্তি বাড়ে|তাই দৈনন্দিন কাজ কর্মে, যেমন: নিচু হয়ে কিছু তুলতে সহজ হয়|
  • এটি পায়ের বা লোয়ার বডির জয়েন্টের টিস্যু গুলোকে বা লিগামেন্ট শক্তিশালী করে|
স্কোয়াটের প্রকারভেদ
স্কোয়াট অনেক রকম হতে পারে, যেমন: ফ্রি হ্যান্ড স্কোয়াট, বারবেল স্কোয়াট, ডাম্বেল স্কোয়াট, ওয়েট মেশিনের সাহায্যে স্কোয়াট(স্মিথ মেশিন, পাওয়ার কেজ ইত্যাদি),জাম্প স্কোয়াট,বল স্কোয়াট, চেয়ার স্কোয়াট ইত্যাদি|জনপ্রিয় কিছু স্কোয়াট হচ্ছে: অলিম্পিক স্কোয়াট, ফ্রন্ট স্কোয়াট, ওভারহেড স্কোয়াট ইত্যাদি|
স্কোয়াটকে বলা হয়—“The ultimate exercise for the lower body” বা “King of leg exercises”.
আপনি যদি শক্তিশালী lower body চান, বা পায়ের মাসেল গুলোকে শক্তিশালী ও ভালো শেপে আনতে চান, তবে এটি অবশ্যই আপনার ব্যায়ামের রুটিনে রাখুন| এটি একটি কষ্টকর ব্যায়াম,কিন্তু আপনি যদি এটি একটু কষ্ট করে চেষ্টা করেন, তবে কিছুদিনের মধ্যেই ফল পাবেন|
এই পোস্টে শুধুই সাধারণ বা ফ্রি হ্যান্ড স্কোয়াট এর সম্পর্কে বলা হয়েছে|পরবর্তী পোস্টগুলোতে আরো অনেক রকম স্কোয়াট সম্পর্কে দেয়া হবে|
স্কোয়াট সম্পর্কে আপনার আরো কোনো অভিজ্ঞতা, বা মন্তব্য থাকলে তা লিখুন|
এই পোস্টটি ভালো লাগলে, সবার সাথে শেয়ার করুন এবং পোস্টটির রেটিং দিন |
ব্যায়ামের কিছু ভুল ধারণা জানতে ক্লিক করুন |
ব্যায়ামের কিছু  সাধারণ নিয়মাবলী জানতে ক্লিক করুন

উৎস: ফিটনেসবিডি

Saturday, July 23, 2011

প্রস্রাবের সমস্যা

সমস্যা: আমার বয়স ২২। ওজন ৬২ কেজি। প্রায় দুই বছর ধরে আমার প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া হয়।এমবিবিএস ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে কোনো লাভ হয়নি। কিছুদিন পর আবার পেটের বাঁ দিকে ব্যথা করে, শক্ত হয়েথাকে, পেট ফুলে যায়। পেটে জ্বালাপোড়া হয়। তারপর একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ দেখাই, কোনো লাভ হয়নি। আমার পায়খানা ক্লিয়ার হয়। আমাকে আর কী করতে হবে, কী ওষুধ খেতে হবে। তা জানালে খুবই উপকৃত হব।সব পরীক্ষা করি। পরীক্ষা নরমাল হয়। ওষুধ ফুল কোর্স সম্পূর্ণ করি।
এস আই টুটুল
পরামর্শ: আপনার অসুস্থতার বর্ণনা ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টদেখে আমার মনে হচ্ছে আপনি প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ ও ইউরেত্রাটিসে ভুগছেন। প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ খুব জটিল কোনো অসুখ না। এটি অনেকেরই হয়েথাকে—চিকিৎসায় সুস্থও হয়েযায়। অসুবিধা হচ্ছে প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহে দীর্ঘস্থায়ী অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। আপনি আপনার ইউরোলজিস্টের পরামর্শ গ্রহণকরুন ও দৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নিন।
এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ২.৫ লিটার পানি ২৪ ঘণ্টায়পান করা, প্রতিদিন ব্যায়াম করা (হাঁটা, সাঁতার কাটা) কুসুম গরম পানিতে hipbath নেওয়া বেশউপকারী। টমেটো, গাজর, পেঁয়াজ নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়। খাদ্যে মাংসের পরিমাণ কমিয়েআনা প্রয়োজন।
পরামর্শ দিয়েছেন: কাজীরফিকুল আবেদীন | তারিখ: ২০-০৭-২০১১
সহকারী অধ্যাপক (ইউরোলজি),
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি,
ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো,

Thursday, July 7, 2011

মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ের ব্যথা ও প্রতিকার

back-pain
প্রায়ই রোগীরা বলে, ‘ডাক্তার সাহেব, আমি শক্ত জায়গায় বসতে পারি না বা বসলে মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ে বেশ ব্যথা হয়। সামনের দিকে ঝুঁকে বসলে ব্যথা কিছুটা কম অনুভব হয়। রিকশায় বসলে হাতে ভর দিয়ে কোমর আলগা করে রাখি।’
এ এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এ রকম রোগে না ভুগলে এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করা যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ককসিডাইনিয়া বলে। ককসিডাইনিয়া বা মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ের ব্যথা ১৫৮৮ সালে প্রথম চিহ্নিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে স্যাম্পসন ১৮৫৯ সালে ককসিডাইনিয়া বা ককসিগোডাইনিয়া বা মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ের ব্যথা নামকরণ করেন। ককসিস, মেরুদণ্ডের শেষের হাড় এবং ৩-৫ সেগমেন্টের সমন্বয়ে গঠিত। তবে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে চারটি সেগমেন্ট থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের পেশি, লিগামেন্ট ও টেনডনের সঙ্গে যুক্ত। ককসিস আকৃতিতে সামনের দিকে অবতল লেন্সের মতো এবং পেছনের দিকে উত্তল লেন্সের মতো। ককসিস পেশি, লিগামেন্ট বা টেনডনের মাধ্যমে মলদ্বারের স্ট্যাবিলিটি নিয়ন্ত্রণ করে এবং মলের বেগ নিয়ন্ত্রণ করে। বসলে, দুই পাশে ইসচিয়াল টিউবেরোসিটি এবং মাঝখানে ককসিস শরীরের ওজন বহন করে। পেছনে ঝুঁকে বসলে ককসিসের ওপর চাপ বেশি পড়ে এবং সামনে ঝুঁকলে চাপ কম পড়ে। তাই ককসিডাইনিয়া বা মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ের ব্যথার রোগীরা সামনের দিকে ঝুঁকে বসে।
কারণ: এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে কারণ জানা নেই। তবে আঘাত, বিশেষ করে পেছনের দিকে পড়ে গেলে এমনটা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ থাকলেও হতে পারে। প্রসবের সময় আঘাত বা প্রলোং ডেলিভারি হলে। অনেক সময় সার্জারির কারণেও হতে পারে। মিসএলাইনড, শক্ত বা লম্বা ককসিসের কারণেও এমনটা হয়। এ ছাড়া পেশির সংকোচন, পাইলোনাইডাল সাইনাস, পাইলোনাইডাল সিস্ট, মেনিসকাল সিস্ট, রিপিটেটিভ স্ট্রেইন যেমন দীর্ঘক্ষণ মোটর বা বাইসাইকেল চালানোর ফলেও এই ব্যথা হতে পারে। ইনফেকশন, ক্যালসিয়াম ডিপসিশন এবং টিউমারও এটার কারণ হতে পারে।
লক্ষণ: ককসিডাইনিয়া বা মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ের ব্যথা পুরুষের থেকে মহিলাদের পাঁচগুণ বেশি হয়। বসার সময় বা বসার পর ব্যথা অনুভূত হয় এতে। দীর্ঘক্ষণ বসলে ব্যথা বেড়ে যায়। শক্ত জায়গায় বসা যায় না। কখনো বসা থেকে দাঁড়াতে গেলে ব্যথা হয়। আবার কখনো নরম জায়গায় বসলেও ব্যথা হয়। পেছনে হেলান দিয়ে বসলে বেশি ব্যথা হয় কিন্তু সামনে ঝুঁকে বসলে ব্যথা কম হয়। গভীর ব্যথা হয় ককসিসের আশপাশে। রিকশায় বসলে হাতে ভর দিয়ে কোমর আলগা করে রাখতে হয়। মলত্যাগ করার সময় বা আগে ব্যথা হয়। সহবাসের সময়ও ব্যথা হতে পারে এর কারণে।
প্রতিকার: ককসিডাইনিয়া বা মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ের ব্যথার চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণগুলোর ওপর। সাধারণ পরীক্ষা, এক্স-রে বসা ও দাঁড়ানো অবস্থায় এবং কখনো কিছু সোফিসটিকেটেড পরীক্ষার প্রয়োজন হয় ককসিডাইনিয়ার সঠিক কারণ জানার জন্য। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে আছে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই।
চিকিৎসা: উপযুক্ত স্ট্রেসিং ও পেশি শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করতে হবে। রিপিটেটিভ স্ট্রেইন যেমন দীর্ঘক্ষণ মোটর বা বাইসাইকেল চালানো যাবে না। শক্ত জায়গায় বসা নিষেধ। নরম জায়গায় বসতে হবে। বসার জন্য ককসিস কুশন ব্যবহার করা যায়। গরম সেক দেওয়া। বেদনানাশক ওষুধ সেবন। স্টেরয়েড ও লোকাল অ্যানেসথেটিক এজেন্ট ইনজেকশন নেওয়া যেতে পারে। নেওয়া যেতে পারে অ্যান্টিসাইকোটিক ড্রাগ থেরাপি।
ককসিস সার্জারি: দীর্ঘদিন ব্যায়াম, মেডিকেল চিকিৎসা এবং স্টেরয়েড ও লোকাল অ্যানেসথেটিক এজেন্ট ইনজেকশন দেওয়া সত্ত্বেও যদি ককসিডাইনিয়া বা মেরুদণ্ডের শেষ হাড়ের ব্যথা না কমে সে ক্ষেত্রে ককসিস সার্জারি করাতে হবে। তবে সার্জারির সময় অতি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
জি এম জাহাঙ্গীর হোসেনী
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Facebook Themes